সংসদ অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটার পরদিন দিল্লির যন্তর-মন্তরে আবারও জড়ো হয়েছে কয়েক হাজার তরুণ। মূলত এই স্থান থেকে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন।

মঙ্গলবার সকাল ও দুপুরের দিকে কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বিকেলে তরুণদের উপস্থিতি বাড়ে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, সোমবার পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে আরও জোরালো করেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে মঙ্গলবার যন্তর-মন্তরে গিয়েছিল পার্লামেন্টের বাম ধারার এমপিদের একটি প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে তারা সোমবারের ঘটনা নিয়ে পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিআই (এম)-এর রাজ্যসভার এমপি জন ব্রিটাস, এএ রহিম, ভি শিবদাসন এবং সিপিআইয়ের পি সন্দোশ কুমার এবং সিপিআই (এম)-এর লোকসভার সদস্য অমরা রাম ও সু ভেঙ্কটেশন। এনসিপি (এসপি) নেতা শরদ পাওয়ারও শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে যন্তর-মন্তরে গিয়েছিলেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন কংগ্রেসের নেতারা। এতে বাকিদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এক্স পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘যেসব দেশপ্রেমিক ভারতীয় বিশ্বাস করেন আমাদের ছাত্ররা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে যোগ দিন।’
দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এই বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের এমপি সুখজিন্দর সিং বলেন, ‘এমপিদেরই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ছাত্রদের সঙ্গে কী হচ্ছে ভেবে দেখুন।’ পরে পুলিশ সুখজিন্দরকেও আটক করে।
কংগ্রেসের এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরকারের কাছে চারটি দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো- পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিকেলে কর্মসূচি শুরুর পরপরই এক্সে একটি পোস্ট দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এতে তিনি লিখেন, ‘গতকাল (সোমবার) তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



