মার্চের এই তপ্ত দুপুরে জানালার বাইরে তাকালে এখন শুধুই রুক্ষ আকাশ চোখে পড়ে। তবে সেই রুক্ষতা কাটাতে এবার কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে প্রকৃতি।

আবহাওয়া অফিস আজ বুধবার জানিয়েছে, দেশের সব বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের গুমোট গরমের পর এমন এক পশলা বৃষ্টির জন্য সাধারণ মানুষ এখন অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, লঘুচাপের একটি বাড়তি অংশ এখন পশ্চিমবঙ্গ এবং এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তার নিজস্ব গতিতে সক্রিয় রয়েছে। বায়ুমণ্ডলের এই বিশেষ বিন্যাসের কারণেই মূলত মেঘ জমে বৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা জনজীবনে কিছুটা হলেও শীতলতার পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।
আজ বুধবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় আকাশ সাময়িকভাবে মেঘলা থাকতে পারে। মাঝে মাঝে বইতে পারে দমকা হাওয়া, আর সেই হাওয়ার সঙ্গেই আসতে পারে ঝিরঝিরে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। যদিও এই বৃষ্টি সব জায়গায় টানা হবে না, তবে দু-এক জায়গায় এর স্থায়িত্ব কিছুটা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাপমাত্রার বিষয়েও একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, আজ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে আসতে পারে। রোদের তেজ কিছুটা স্তিমিত হওয়ায় গরমের তীব্রতাও কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসার কথা। তবে রাতের তাপমাত্রায় খুব একটা বড় ধরনের রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির এই প্রবণতা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। আবহাওয়া অফিস বলছে, সপ্তাহের শেষার্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ আগামী কয়েক দিন প্রকৃতির মেজাজ খানিকটা অন্যরকম থাকতে পারে। ধুলোবালিতে ভরা পথঘাটগুলো হয়তো আবার সজীব হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ মেয়াদে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই বৃষ্টির ধারা আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে সপ্তাহের শেষের দিকে বৃষ্টির এই তোড়জোড় ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকৃতির এই আসা-যাওয়ার খেলায় আপাতত স্বস্তিটুকুই বড় হয়ে ধরা দিচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে।
চৈত্র আসার আগে আগে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস যেন এক অন্যরকম দোলা দিয়ে যাচ্ছে। খরা প্রবণ এই সময়ে এক ফোঁটা বৃষ্টি কৃষকের জন্য যেমন আশীর্বাদ, তেমনি শহরের তপ্ত পিচঢালা পথে চলাফেরা করা মানুষের কাছেও তা পরম পাওয়া। তবে এই হঠাৎ বৃষ্টিতে সাধারণ সর্দি-কাশির মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলতে কিছুটা সচেতনতাও জরুরি।
আরও পড়ুনঃ
এখন অপেক্ষা শুধু সেই মেঘের ডাক আর শীতল হাওয়ার, যা দুপুরের কড়া রোদকে কিছুটা হলেও আড়াল করে দেবে। আবহাওয়া অফিসের এই পূর্বাভাস যদি সত্যি হয়, তবে গত কয়েক দিনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতি আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। শেষ পর্যন্ত এই বৃষ্টির স্থায়িত্ব কতক্ষণ হবে, তা পুরোপুরি সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


