Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : দেশে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যের হারের পাশাপাশি আয় বৈষম্যও বেড়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বৈষম্যের হার ২০১৮ সালে ০.৩১ থেকে ২০২৩ সালে কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৩২-তে। তবে, ধনী এবং দরিদ্রের আয়ের অংশের দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করলে, অর্থাৎ সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশের আয়ের অংশের তুলনায় দরিদ্রতম ২০ শতাংশ পরিবারের আয়ের অংশ বিবেচনায়, অনুপাতটি ২০১৮ সালে ২.১ থেকে ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৪ শতাংশে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গেল বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে দেশজুড়ে খানা পর্যায়ে পরিচালিত এ জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সানেম। এই জরিপের আওতায় ছিল দেশের ৬৪ জেলায় ৯ হাজার ৬৫টি খানা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যের হারের পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্যও লক্ষ্য করা গিয়েছে। গিনি সহগ ব্যবহার করে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে বৈষম্যের হার ২০১৮ সালে ০.৩১ থেকে ২০২৩ সালে কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৩২-তে। তবে, ধনী এবং দরিদ্রের আয়ের অংশের দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করলে, অর্থাৎ সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশের আয়ের অংশের তুলনায় দরিদ্রতম ২০ শতাংশ পরিবারের আয়ের অংশ বিবেচনায়, অনুপাতটি ২০১৮ সালে ২.১ থেকে ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৪-এ। তদনুসারে, সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশের সাথে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশের ব্যয়ের শেয়ারের অনুপাত ২০২০ সালে ১.৩ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ২.১-এ দাঁড়িয়েছে।

যেহেতু বেশিরভাগ অতিশয় ধনী পরিবারকে সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি, বিশেষ করে শহরাঞ্চল থেকে, তাই অসমতার প্রকৃত রূপ এরচেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলেও জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যের হার ও বৈষম্যের বিপরীতে, অন্তত একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচী পেয়েছে এমন পরিবার বিগত বছরে (অক্টোবর ২০২২-সেপ্টেম্বর ২০২৩) দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীগুলোর মধ্যে টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড সেবা সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিবারের কাছে পৌছাতে সক্ষম হয়েছে (১৫.৬৩ শতাংশ)। এছাড়া অন্য প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্ধক্য ভাতা (৮.৯ শতাংশ), বিধবা/স্বামী নিগৃহীত/দুস্থ মহিলা ভাতা (৪.৯৮ শতাংশ), আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা (৩.৩৪ শতাংশ) এবং খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি (৩.১৭ শতাংশ) প্রভৃতি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার ২০.৭ শতাংশ। এরমধ্যে গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্যের হার ২১.৬ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ১৮.৭ শতাংশ। বাংলাদেশে গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার ২০১৮ সালে ছিলো ২৪.৫ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ২১.৬ শতাংশ-এ হ্রাস পেলেও শহুরে দারিদ্র্যের হার ১৬.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮.৭ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ দারিদ্র্যের হার রংপুর ও বরিশালে; যথাক্রমে ৪২.৯ শতাংশ এবং ৩২.৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। গ্রামীণ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ৩০.৪ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ২৭.৬ শতাংশে, অন্যদিকে শহরাঞ্চলে তা ২০১৮ সালে ১৬.৮ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে।

গবেষণায় মৌলিক চাহিদার খরচ ভিত্তিক দারিদ্র্য এবং বহুমাত্রিক দারিদ্র্য পদ্ধতি, উভয় ক্ষেত্রেই শহুরে দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনের দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত- নাজুক দরিদ্রদের (যারা দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকলেও যেকোনো ধাক্কার প্রভাব তাদের দারিদ্র্যসীমার নিচে নামিয়ে দিতে পারে) একটি বড় অংশ শহুরে অঞ্চলগুলোতে বসবাস করে, যারা দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে অথবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইত্যাদি কারণে শহরে স্থানান্তরিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির মতো উল্লেখযোগ্য ধাক্কাগুলো এই নাজুক লোকদের দারিদ্র্যসীমার নীচে নামিয়ে দিতে পারে। এবং দ্বিতীয়ত, শহুরে এলাকাগুলো বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে ব্যাপকভাবে আওতাভুক্ত না, যার ফলে অনেক শহুরে পরিবার ধাক্কার প্রতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।

দেশে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি রংপুর-বরিশাল বিভাগে

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Bhuiyan Md Tomal is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He works to ensure accuracy, clarity, and consistency in published content for digital audiences. His approach reflects a commitment to responsible journalism and quality reporting.