দেশে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন করে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, হামসহ মোট ১০ ধরনের টিকা সংগ্রহের জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা দেশে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তার কথায়, ছোট শিশুদের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিটি পরিবারের জন্য গভীর শোকের বিষয়—যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্যও বড় উদ্বেগের জায়গা।
তিনি স্বীকার করেন, কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল এবং সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। তবে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, করোনা মহামারির সময় টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ের ঘাটতি এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। ফলে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান চক্রে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে, যার প্রভাব এখন সামনে আসছে।
এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবার বৃহৎ পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশুদের প্রয়োজনীয় সব টিকা নিশ্চিত করা এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।
টিকা দেশে পৌঁছানোর পরই সারাদেশে একযোগে কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি নিয়মিত কার্যক্রম নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আরও পড়ুনঃ
বর্তমানে টিকা আসার অপেক্ষায় থাকলেও প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন করে টিকাদান কার্যক্রমে গতি আসবে—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


