সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে একটি কুচক্রীমহল নানান অপপ্রচারের হীনপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নানা রকম মিথ্য ও বানোয়াট তথ্য ব্যবহার করে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ কে জড়িয়ে নানান গালগল্প তৈরী করা হচ্ছে।

আর্থিক সেবা নগদ

Advertisement

বিষয়টি নগদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নগদ দৃঢ়ভাবে এই চক্রান্তের প্রতি তীব্র নিন্দা এবং একই সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নগদ জানায়, ‘অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করে নগদের সুনামহানী করার মাধ্যমে কোনো একটি পক্ষ হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা করছে।

প্রশাসকদের নগদ হতে বেতন গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে

অপপ্রচার করা হচ্ছে যে,প্রশাসক প্রতিমাসে নয় লক্ষ এবং সহযোগী প্রশাসকগণ প্রতিমাসে পাঁচ লক্ষ টাকা করে বেতন গ্রহণ করছেন। প্রকৃত সত্য হলো,নগদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসিক নয় লক্ষ টাকা হারে মূল বেতন (অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা ব্যতীত) গ্রহণ করতেন, যা প্রশাসক-এর বেতন হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রশাসক ও সহযোগী প্রশাসকগণ নগদ হতে কোন বেতন গ্রহণ করেন না। তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান (বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগ) হতে বেতন গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত যে ছবি ছড়ানো হয়েছে তা মিথ্যা এবং চক্রান্তকারীদের দ্বারা তৈরি করা। নগদ-এর কর্মীদের মাসিক বেতন সীট পরীক্ষা করা হলে এ সংক্রান্ত সকল তথ্য পাওয়া যাবে এবং এ বিষয়ে নগদ কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহযোগীতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য যে, প্রশাসক আগস্ট, ২০২৪ এ নগদে যোগদানের পর হতে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত নগদ হতে কোন মাসিক ভাতা পাননি। তবে, ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ হতে প্রশাসক দল বাংলাদেশ ব্যাংক হতে বিশেষ ভাতা পেতেন। পরবর্তীতে, বাংলাদেশ ব্যাংক হতে উক্ত বিশেষ ভাতা গ্রহণ না করার শর্তে নগদ-এর বোর্ড অক্টোবর, ২০২৫ হতে প্রশাসকের জন্য মাসিক দুই লক্ষ পঞ্চাস হাজার টাকা এবং সহযোগী প্রশাসকদের জন্য দুই লক্ষ টাকা হারে মাসিক বিশেষ ভাতা নির্ধারন করেন।

২০২৫ সালের মে মাসে যখন মহামান্য আদালতের আদেশে প্রশাসক দল নগদ হতে প্রত্যাহার হয়, তখনও নগদ হতে প্রশাসক দলের বেতন গ্রহণ বিষয়ে একই মিথ্যা ও অপতথ্য প্রচার করা হয়েছিল। নগদ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তখনো এ বিষয়ে একটি প্রতিবাদলিপি প্রদান করা হয়েছিল।

নগদ এর গাড়ী ব্যবহার প্রসঙ্গে

অপর একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, নগদ থেকে দুইটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ি নিয়েছেন প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। প্রকৃত সত্য হল – প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নগদের পরিবহন পুলে অনেক আগে থেকে থাকা তিনটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ির মধ্যে একটি গাড়িই প্রশাসক দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করেন এবং অপর দু’টি গাড়ি নগদ-এর অন্যান্য কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করেন। আরো উল্লেখ্য, প্রশাসক নগদে দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন কোন গাড়ি ক্রয় করা হয়নি এবং প্রশাসক কখনোই দুইটি গাড়ী ব্যবহার করেননি।

যাতায়াত ভাতা গ্রহণ প্রসঙ্গে

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহ নগদ-এর সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এতে নগদের লেনদেন দ্রুত কমতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে আস্থা পুনরুদ্ধার ও লেনদেন পুনরায় শুরু করাসহ নানাবিদ কারণে নগদের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণসহ প্রশাসক দলের বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাগণ অফিস সময়ের বাহিরেও করপোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহের অফিসে সভা করেছে। এই সকল সভায় অংশগ্রহণের জন্য যে সকল ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য নগদ এর অফিসিয়াল গাড়ি বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হয়নি, সে সকল ক্ষেত্রে নগদ-এর ম্যানেজমেন্ট বোর্ড এর অনুমোদিত পলিসি অনুযায়ী কনভেয়ান্স বা যাতায়াত খরচ প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে, নিয়মের কোনরূপ ব্যত্যয় হয়নি।

বোর্ড সদস্যদের সম্মানী গ্রহণ প্রসঙ্গে

ম্যানেজমেন্ট বোর্ড-এর সদস্যগণ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্ধারিত মাসিক পঞ্চাস হাজার টাকা করে সম্মানী পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি, প্রতিটি বোর্ড মিটিং-এ অংশগ্রহণের জন্য দশ হাজার টাকা করে সম্মানী পেয়ে থাকেন। ম্যানেজমেন্ট বোর্ড নিয়োগের পর হতে অদ্যবধি কোন মাসে একটির অধিক বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। উল্লিখিত সম্মানী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ম্যানেজমেন্ট বোর্ড এর সদস্যগণকে নিয়োগের বিধি অনুযায়ী প্রদেয় হয়। উল্লেখ্য যে, ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত স্বতন্ত্র পরিচালকগণও অনুরূপ সম্মানী পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রেও, কোনরূপ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।

রিক্রুটমেন্ট ইন্টারভিউ এর জন্য সম্মানী গ্রহণ প্রসঙ্গে

নগদ-এর বোর্ড অনুমোদিত পলিসি অনুসারে কর্মী রিক্রুটমেন্ট এর উদ্দেশ্যে গঠিত ইন্টরভিউ বোর্ড-এর সদস্যগণ ইন্টারভিউ গ্রহণের জন্য সম্মানী পেয়ে থাকেন। নগদ-এর ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল সকল সদস্য এই সম্মানী পেয়ে থাকেন। কোন ইন্টারভিউ বোর্ড-এ প্রশাসক দলের কোন সদস্য অংশগ্রহণ করে থাকলে তিনিও অন্যান্য বোর্ড মেম্বারদের ন্যায় সম্মানী প্রাপ্য হতে পারেন। এক্ষেত্রেও নিয়মের কোনরূপ ব্যত্যয় হয়নি।

বোট ক্লাবে প্রশাসকের জন্মদিন পালনের অভিযোগ প্রসঙ্গে

অপপ্রচার করা হচ্ছে যে, নগদ-এর অর্থ খরচ করে বোট ক্লাবে প্রশাসকের জন্মদিন পালন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা তথ্য। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বোট ক্লাবে নগদ-এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের গেট-টুগেদার অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত অনুষ্ঠানের বিল নগদের প্রশাসক নিজে পরিশোধ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে নগদ-এর কোনরূপ আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মে, ২০২৬ মাসে নগদ তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৪,৬৩৯ কোটি টাকা লেনদেন করে। উক্ত লেনদেনের রেকর্ড উপলক্ষে প্রশাসক নগদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়ে কেক কেটে উদযাপন করেন, যার ছবি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। উক্ত কেক কাটার ছবি একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে প্রশাসকের সম্মান হানীর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

প্রশাসকের ব্যক্তিগত খরচ নির্বাহের অভিযোগ প্রসঙ্গে

অপপ্রচার করা হচ্ছে যে, নগদ থেকে প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ তার গৃহপরিচারিকার বেতন নিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পরিশোধ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ একটি মিথ্য প্রচারণা। প্রকৃত সত্য হলো, একই গ্রেডভুক্ত অন্যান্য সরকারি চাকুরিজীবীদের ন্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুসারে নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্যে এই সুবিধার বিধান রয়েছে। নগদ-এর প্রশাসক জনাব মো. মোতাছিম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুসারেই তিনি এই সুবিধা পাপ্য। তিনি তার প্রাপ্য সুবিধা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করেছেন, এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিমাসেই জনাব মো. মোতাছিম বিল্লাহ-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে তার প্রাপ্য সুবিধা প্রদান করে থাকে।

এখানে, নগদ এর কোনরূপ আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ, প্রশাসক কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংক-এ প্রেরিত দুইটি চিঠির ছবি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে যে, “প্রশাসক নগদ থেকে গৃহপরিচারিকার বেতন নেওয়া বা ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পরিশোধ করেছেন”-যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। উল্লেখ্য, অবৈধভাবে ব্যবহৃত চিঠি দু’টির ছবি থেকেও পরিষ্কার বুঝা যায় যে, এগুলো প্রশাসক বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর পাঠিয়েছেন। তথাপি, প্রশাসকের নেতৃত্বে নগদ-এর রেকর্ড লেনদেন ও পুনরুত্থানকে বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসক-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।

ব্যক্তিগত গানম্যান বা দেহরক্ষী রাখা প্রসঙ্গে

প্রশাসক কর্তৃক ব্যক্তিগত গানম্যান বা দেহরক্ষী রাখার বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপনও নগদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, নগদ-এর পূর্বাতন প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার এর উপর নগদে প্রশাসনিক দায়িত্বপালনরত অবস্থায় দুর্বৃত্তকারীরা হামলা করেছে।

এছাড়াও, প্রশাসক দলকে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ মাধ্যমে হুমকি-ধামকি প্রদান করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসকের নিরাপত্তার জন্য একজন গানম্যান নিয়োগ প্রদান করা হয়।

সর্বোপরি নগদ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত পুনঃব্যক্ত করছে যে, প্রশাসক নগদ হতে কোনরূপ নিয়মবহির্ভুত আর্থিক বা অনার্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন নাই। এ বিষয়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যে কোন জিজ্ঞাসা-কে নগদ কর্তৃপক্ষ স্বাগত জানায় এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.