প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নবনির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর বণ্টনের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের পর রাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ৫০ সদস্যের বিশাল মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া খলিলুর রহমান একজন দক্ষ পেশাদার কূটনীতিক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
টেকনোক্র্যাট কোটায় তার এই অন্তর্ভুক্তি নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক ধরণের পেশাদার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার অভিজ্ঞতা দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া শামা ওবায়েদ ইসলাম বিএনপির রাজনীতির এক পরিচিত মুখ এবং ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশাপাশি দলের বিদেশ বিষয়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ স্থাপনে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। একজন নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি খলিলুর রহমানের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বহুমাত্রিক কূটনীতি পরিচালনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ এবং নবীনের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পেশাদার কূটনীতিক এবং একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেত্রীর পদায়ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজ থেকেই নবনিযুক্ত এই দুই শীর্ষ কূটনীতিক তাদের নিজ নিজ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


