শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে অভিযোগ করাটা যেন অনেকটা নিয়মে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। গত টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের পর পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন যখন উইকেটের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এবারও হয়তো একই অজুহাত আসবে। কিন্তু বুধবারের চিত্রটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর হেসন কোনো অজুহাত খুঁজলেন না, বরং পরাজয়ের দায় কাঁধে নিয়ে প্রতিপক্ষের এক তরুণের বন্দনায় মাতলেন।

বুধবার মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হওয়া পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। লক্ষ্যটা এতটাই ছোট ছিল যে, মাত্র ১৫ ওভার ১ বল খেলতেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে স্বাগতিকরা। এই বিশাল জয়ের নায়ক আর কেউ নন, তিনি গতিদানব নাহিদ রানা। একাই ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন এই তরুণ পেসার।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাইক হেসন যখন মাইকের সামনে দাঁড়ালেন, তখন তার কণ্ঠে ছিল না কোনো তিক্ততা। উইকেটের সমালোচনা না করে তিনি বরং সোজাসাপ্টা স্বীকার করে নিলেন যে, উইকেট মোটেও খারাপ ছিল না। হেসনের মতে, নাহিদ রানা বোলিংয়ে আসার আগ পর্যন্ত তারা বেশ নিয়ন্ত্রণেই ছিলেন এবং উইকেটও ব্যাটারদের জন্য অনুকূল ছিল। কিন্তু নাহিদ আসার পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়, যা সামলানোর ক্ষমতা তাদের ব্যাটারদের ছিল না।
হেসন জানালেন, নাহিদ রানাকে এর আগে তিনি টেলিভিশনের পর্দায় অনেকবার দেখেছেন, তবে মাঠে দাঁড়িয়ে সরাসরি তার বোলিং দেখাটা ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। নাহিদ যেভাবে বল উইকেটে হিট করেন এবং সিমের যে ব্যবহার দেখিয়েছেন, তা হেসনকে রীতিমতো মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে উইকেট টু উইকেট বল করার পাশাপাশি গতি এবং বৈচিত্র্যের যে মিশ্রণ নাহিদ দেখিয়েছেন, তা বিশ্বমানের যেকোনো ব্যাটারের জন্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তানের ব্যাটিং নিয়ে নিজের হতাশা লুকাননি এই অভিজ্ঞ কোচ। তিনি মনে করেন, শুধু তরুণরা নয়, দলের অভিজ্ঞ ব্যাটারদেরও আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। নাহিদ রানার করা ক্রস-সিম ডেলিভারিগুলো বুঝতে না পারা এবং নিজেদের দক্ষতার সঠিক প্রয়োগ করতে না পারাটাই পাকিস্তানের বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তিনি। ভালো বোলিংয়ের সামনে খেই হারিয়ে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান হেসন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে এমন কঠিন সময় আসতেই পারে। অভিষেক ম্যাচে সবাই সেঞ্চুরি বা বড় সাফল্য পাবে এমনটা আশা করা অবাস্তব। বরং নাহিদ রানার মতো বোলারদের বিপক্ষে খেলে তরুণরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসল চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা পাবে। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে ধৈর্য ধরে লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পাকিস্তান কোচ।
আরও পড়ুনঃ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নাহিদ রানার এই পারফরম্যান্স এক নতুন আশার আলো। মিরপুরের উইকেটে যেখানে স্পিনারদের দাপট থাকে সবসময়, সেখানে একজন পেসার এসে পুরো প্রতিপক্ষকে একাই ধসিয়ে দিচ্ছেন—এটি দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য বড় এক বিজ্ঞাপন। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


