আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে এখন এক ধরনের চাপা উত্তেজনা ও ব্যাপক প্রস্তুতির ছবি দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক পটভূমি এবং ভোটাধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবারের ভোটকে ভিন্ন এক গুরুত্ব দান করেছে।

তরুণ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আশিকুর রহমা নির্বাচনের এই পরিবেশ নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, একটা সময় যখন জনমনে এমন ধারণা জন্মেছিল যে ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল হয়তো আরও কয়েক প্রজন্মকে বয়ে বেড়াতে হবে, ঠিক তখনই দেশের তরুণ সমাজ রুখে দাঁড়িয়েছিল।
তরুণদের সেই প্রতিবাদের স্লোগান ছিল “We Revolt”। আশিকুর রহমান মনে করেন, তরুণদের সেই সাহসী কণ্ঠস্বরই আজ একটি বড় নাগরিক সিদ্ধান্তে রূপ নিতে যাচ্ছে। রাজপথের সেই দ্রোহ এখন ব্যালট পেপারের শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই বিশাল সংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘ সময় ধরে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।
আশিকুর রহমানের ভাষায়, এই নির্বাচন স্রেফ একটি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। বরং এটি গত ১৭ বছরের নীরবতা এবং অবদমিত হয়ে থাকা কণ্ঠস্বরের একটি সম্মিলিত জবাব। দেশের মানুষ এখন সেই বাস্তবতাকে আমূল বদলে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একদিকে সংসদ সদস্য নির্বাচন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট। এই দ্বৈত প্রক্রিয়ার কারণে ভোটারদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের সংশয় তৈরি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টরা নজর রাখছেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতা আশিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কোনো ভয় বা সংশয় না রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। তিনি মনে করেন, নিজের বিবেক, বুদ্ধি এবং আগামীর প্রত্যাশার মেলবন্ধন ঘটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন প্রধান নাগরিক দায়িত্ব।
সংসদ সদস্য নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি যারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন বা সংস্কার চান, তাদের জন্য গণভোট একটি বড় সুযোগ। আশিকুর রহমানের পরামর্শ, সংস্কারের পক্ষে যারা অবস্থান নিতে চান তারা যেন গণভোটে “হ্যাঁ” সিল দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে, তা নির্বাচনের দিনটিকে আরও বর্ণিল করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের মূল শক্তি যে জনগণের হাতেই থাকে, এই নির্বাচন সেটি প্রমাণের বড় মঞ্চ।
আরও পড়ুনঃ
দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তার চাবিকাঠি এখন সাধারণ মানুষের হাতে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি স্থিতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত তৈরি করতে। ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই জনরায় শেষ পর্যন্ত কী বার্তা দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


