
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের আরব-ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদ মনসুর আব্বাসের এই ছবিটি ইতিহাসের পাতায় থাকতেই পারে। উগ্র-ইহুদিবাদী নেতা নাফতালি বেনেটের পাশে বসে মুচকি হাসছেন তিনি। যা এর আগে কখনো ঘটেনি।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হটিয়ে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট।
বুধবার (২ জুন) দিন শেষে নতুন সরকার গঠনের জোট ঘোষণার পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিসরে প্রথম কোনো ইসলামপন্থী হিসেবে মনসুন আব্বাস ঢুকে পড়েছেন। খবর রয়টার্সের।
তার ছোট্ট ইসলামি দলটি নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গঠিত জোটের অংশ। ইসরায়েলে বর্তমানে ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু আছে। দ্য ইউনাইটিড আরব লিস্ট তাদেরই একটি দল। এবার তারা ইসরায়েলি সরকারে অংশ নিতে যাচ্ছে।
পুরো অধিকৃত পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করে নেওয়ার পক্ষপাতি নাফতালি বেনেটের সঙ্গে মনসুর আব্বাসের রাজনৈতিক পার্থক্য স্পষ্ট। কারণ মনসুর আব্বাস একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরোধী।
পেশায় দন্ত চিকিৎসক মনসুর আব্বাস বলেন, আমার প্রত্যাশা, নতুন সরকার গঠন হলে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের জীবনের মান উন্নতি ঘটবে। আরবদের প্রতি সরকারি বৈষম্য ও অবহেলার অভিযোগ করেন তিনি।
নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর তিনি আরও জানান, দেশের রাজনৈতিক শক্তিতে ভারসাম্য আনতে আমরা সরকারে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তার দল জানায়, চুক্তিতে আরব শহরগুলোতে সহিংস অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই ও অবকাঠামো উন্নয়নে এক হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের বিষয়টিও রয়েছে। এছাড়া আরবদের গ্রামে অনুমতি ছাড়া নির্মিত বসতি ধ্বংস স্থগিত করে দেওয়া ও নেগাভ মরুভূমিতে বেদুইন শহরকে আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দেওয়ার কথাও রয়েছে।
আব্বাস বলেন, যখন আমাদের সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে এই সরকার গঠন হচ্ছে, তখন সেখানে আমাদের প্রভাব থাকবে।
গালিলি সাগরের কাছে দ্রুজ, মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের সংমিশ্রণে আরবদের গ্রাম। সেই গ্রাম থেকেই উঠে এসেছেন এই ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদ।
ইসরায়েলি ইসলামি আন্দোলনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাখা হচ্ছে তার রাজনৈতিক দল। ১৯৭১ সালে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটির উৎস মুসলিম ব্রাদারহুড বলে খবরে দাবি করা হয়েছে।
তবে সরকারি জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে আরবদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন মনসুর। অধিকৃত পশ্চিমতীর ও অবরুদ্ধ গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক দখলদারিত্ব চালানো সরকারে কীভাবে তিনি যোগ দেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দক্ষিণ ইসরায়েলের বেদুইন শহর রাহাতের বাসিন্দা মুসা আল-জায়েদনা বলেন, নতুন কিছু করার উদ্যোগ নেওয়ায় তার প্রশংসা করা উচিত। কিন্তু গাজায় আরেকটি লড়াই হলে তার ওপর চাপ বাড়বে। তখন কী তিনি সরকারে থাকতে পারবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


