রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুকে ঘিরে গভীর শোক, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ এ এ ঘটনা ঘটে।

আদ-দ্বীন হাসপাতাল

Advertisement

হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা ও নবজাতক ভর্তি ছিলেন এবং শিশুদের বয়স ছিল দুই থেকে চার দিনের মধ্যে। ডেলিভারির পর প্রথমদিকে সবাই সুস্থ থাকলেও রাত ১২টার পর থেকে হঠাৎ করে অবস্থার অবনতি শুরু হয় এবং ভোর হওয়ার আগেই একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে কান্না ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিস্থিতি। পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

দোহার নবাবগঞ্জ থেকে আসা জানু জানান,তার পুত্রবধূ ফারিয়াকে চার দিন আগে ডেলিভারির জন্য এখানে ভর্তি করা হয়েছিল এবং আগেও চিকিৎসা নেওয়ার কারণে তারা হাসপাতালে আস্থা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, প্রসবের পর নবজাতক পুরোপুরি সুস্থ ছিল, কিন্তু রাতে হঠাৎ জানানো হয় তার অবস্থা খারাপ। আমরা বারবার নার্স ডাকলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সকালে জানতে পারি এসি বন্ধ বা গ্যাস লিকেজের কারণে শ্বাসকষ্টে বাচ্চা মারা গেছে, আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আকায়িদ জানান, তার স্ত্রী মিম আক্তারের প্রথম সন্তান ডেলিভারির পর সুস্থ ছিল। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নবজাতক ভালো ছিল। ভোরে হঠাৎ চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি একের পর এক বাচ্চা মারা যাচ্ছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, একই ওয়ার্ডে অনেক নবজাতক ছিল, কিন্তু সেই সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া যায়নি।

সেতু, ফাহিমা ও ফারিহার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, রাত ১২টার পর থেকেই বাচ্চারা নিস্তেজ হতে শুরু করে এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। ডাকাডাকি করলেও দ্রুত নার্স পাওয়া যায়নি। পরে সবাইকে একসঙ্গে আইসিইউতে নেওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

একই অভিযোগ করেন নাজমা, মনিরা ও শারমিনের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, রাতের বেলা স্টাফদের পাওয়া যাচ্ছিল না, বাচ্চারা কষ্ট পেলেও কেউ দ্রুত আসেনি।

জান্নাত ও মোমেনার পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, কিছু রোগীকে রিলিজ দেওয়া হচ্ছিল, অথচ একই সময়ে নবজাতকদের অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। তারা বলেন, মারা যাওয়ার পর আইসিইউতে নেওয়া হয়, আগে কেন নেওয়া হয়নি এটা আমাদের প্রশ্ন।

ফাহিমা ও রুমির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, এসি বন্ধ বা গ্যাস লিকেজের কারণেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বলে তারা জানতে পারেন। এছাড়া কিছু স্বজন অভিযোগ করেন, মৃত্যুর পরও ওষুধ আনতে বলা হয়েছে এবং ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিভাবকদের পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকারও দেওয়া হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় এবং এটিকে প্রাথমিকভাবে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে এবং ফরেনসিক টিমও কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.