নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজতর করতে ভুটানকে বিকল্প হিসেবে পানগাঁও বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দশম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দুই দিনব্যাপী বৈঠকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সোমবার (৯ মার্চ) ও মঙ্গলবার (১০ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। অন্যদিকে, ভুটান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব তাশি ওয়াংমো।
বৈঠকে ভুটানের পণ্য পরিবহন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে পানগাঁও বন্দরকে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিস্তারিত প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ। ভুটানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশটির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করবেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে উভয় পক্ষ পর্যটন সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভুটানের পর্যটন বিভাগ (ডিওটি) এবং বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে সম্মত হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভুটান স্ট্যান্ডার্ডস ব্যুরো (বিএসবি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে মান ও প্রশংসাপত্রের জন্য একটি পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি (এমআরএ) সম্পাদন করা হবে। এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) পর্যালোচনা এবং পিটিএ-র (পছন্দমূলক বাণিজ্য চুক্তি) অধীনে পণ্য বৃদ্ধিসহ বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ত্বরান্বিত করার জন্য একটি যৌথ বাণিজ্য কমিটি (জেটিসি) গঠনের বিষয়েও উভয় দেশ একমত হয়েছে।
ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা বাড়াতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ভুটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভুটানের পণ্যের প্রচার ও বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণের জন্য দেশটিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সাব-কমিটি গ্রুপ পুনর্গঠন এবং ভুটানের রপ্তানিকারকদের পেমেন্ট-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। এটি দুই দেশের মধ্যে মসৃণ বাণিজ্য লেনদেন সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত বিরতিতে জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস এবং জয়েন্ট ট্রেড বা টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক করার বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
উভয় প্রতিনিধিদল দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে ভুটানের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে অবস্থান করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


