Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক : একরামুল আহসান কাঞ্চন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর দিল্লুর সিন্ডিকেটের হয়রানিমূলক ৪৯টি মামলা দায়েরের ঘটনায় সিআইডির প্রতিবেদন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছেন, ‘জায়গা–জমির জন্য মুরিদ দিয়ে মামলা করবে, এটি কি কথা হলো? মুরিদের ঠিকানা দিয়ে মামলা করেছে। একটি মিথ্যা মামলা দিলেই তো মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। সেখানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এতগুলো মামলা দিলেন?’

রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

একরামুল আহসান নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় করা মামলার নেপথ্যে এক পীর ও তার অনুসারীদের জড়িত থাকার তথ্য এসেছে সিআইডির ওই প্রতিবেদনে।

শুনানিকালে আদালত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশে পীর সাহেবের কাণ্ড দেখেন। জায়গা–জমি দখলের জন্য পীর সাহেব কী করেছেন, দেখেন। সম্পত্তির জন্য তথাকথিত মুরিদ দিয়ে মামলা করেছেন। পীর সাহেবের কেরামতি দেখেন।’

ধর্ষণ, মারধর, চুরি, মানব পাচার-এমন সব অভিযোগে দেশের ১৩টি জেলায় করা ২০টি মামলার চক্করে রাজধানীর শান্তিবাগের বাসিন্দা একরামুল আহসানকে ১ হাজার ৪৬৫ দিন কারাভোগ করতে হয়। এ অবস্থায় জামিনে বের হয়ে ওই সব মামলা ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে মামলা দায়েরে সম্পৃক্ত বা বাদীকে খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ জুন হাইকোর্টে রিট করেন ৫৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী একরামুল। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৪ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

হাইকোর্ট ওই সব মামলা করা ও এর পেছনে কারা আছেন, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।

অন্যদিকে একরামুলের বিরুদ্ধে করা পৃথক মামলার কয়েকজন বাদী হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এমাদুল হক বশির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। একরামুলের বিরুদ্ধে মামলাকারী আফজাল হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ।

শুনানিতে আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ বলেন, ২০ নম্বর বিবাদীর (আফজাল হোসেন) পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। হাইকোর্টের আদেশ ৫ সেপ্টেম্বর স্থগিত করা হয়।

আদালত বলেন, ‘তাহলে কি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না? তদন্ত স্থগিত করলে তদন্তও করা যাবে না?’ ওয়াজি উল্লাহ বলেন, ‘যাবে।’

এ সময় আইনজীবী এমাদুল হক বশির বলেন, ‘৪৯টি মামলা হলেও ২০টি মামলা নিয়ে রিট। ২০টি মামলার পাঁচজন বাদী আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করেন। তাঁদের মামলার ক্ষেত্র হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত হয়েছে শুনেছি। তবে কপি পাইনি।’ আদালত বলেন, ‘কপি নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেন। আপিল বিভাগের আদেশ নিয়ে আসেন। এই সপ্তাহের জন্য বিষয়টি মুলতবি রাখা হলো।’

সিআইডির প্রতিবেদনে যা রয়েছে : সিআইডির প্রতিবেদনের ভাষ্য, একরামুল আহসানের তিন ভাই ও এক বোন। ১৯৯৫ সালে তার বাবা আনোয়ারুল্লাহ মারা যান। রাজারবাগ দরবার শরিফের পেছনে ৩ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা পৈতৃক বাড়ি তাদের। বাবার মৃত্যুর পর একরামুলের বড় ভাই আক্তর-ই-কামাল, মা কোমরের নেহার ও বোন ফাতেমা আক্তার পীর দিল্লুর রহমানের মুরিদ হন। কিন্তু রিট আবেদনকারী ও তার আরেক ভাই কামরুল আহসানকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করেও ওই পীরের মুরিদ করা যায়নি। এর মধ্যে একরামুল আহসানের মা, ভাই ও বোনের কাছ থেকে তাদের পৈতৃক জমির অধিকাংশই পীরের দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করা হয়। আর একরামুল আহসান ও তার ভাইয়ের অংশটুকু পীর ও তার দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করার জন্য পীর দিল্লুর ও তার অনুসারীরা বিভিন্নভাবে চাপ দেন। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তর না করায় পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে একরামুল আহসানের শত্রুতার সৃষ্টি হয়। সে শত্রুতার কারণেই একরামুল আহসানের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় হয়রানিমূলক মামলা করেন পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একরামুল আহসানের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মোট ৪৯টি মামলা করা হয়। ইতোমধ্যে জিআর ১৫টি মামলা এবং সিআর ২০টি মামলায় আবেদনকারী আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ১৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অধিকাংশ মামলার নথিপত্র সংগ্রহের পর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মানব পাচার, নারী নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যাচেষ্টার মামলাসহ প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধর্তব্য ও ধর্তব্য ধারায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মামলা করা হয়েছে। অধিকাংশ মামলার বাদী, সাক্ষী, ভুক্তভোগীর কোনো না কোনোভাবে রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং ওই দরবার শরিফের পীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.