
কুষ্টিয়া : দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা এবং প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার আসাদুজ্জামান অংশ নেন। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রানীনগর বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার সুনীল কুমার যাদব। বৈঠকে পুশইনের ঘটনা ছাড়াও সীমান্ত পরিস্থিতি ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশইনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত ১২ জন নারী ও শিশুকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। জবাবে বিএসএফ জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য যাচাইবাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করবে বলেও জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় ১২ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। গতকাল সকালেও ওই ১২ জনকে সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি পাট খেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। তারা শুক্রবার রাতে খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। জানা গেছে, তীব্র গরমের পর পুরো রাত খোলা আকাশের নিচে কাটাতে গিয়ে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আটকে পড়া এ মানুষগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে আমাদের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও আমরা পাচ্ছি। সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে।
লালমনিরহাট : হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একদল লোককে সীমান্ত দিয়ে পুশইন করার চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং এলাকাবাসী তা রুখে দিয়েছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্তের ৯০৬ নম্বর প্রধান পিলারের ৮ নম্বর সাব-পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে ১০-১২ জন ব্যক্তিকে বহনকারী একটি গাড়ি এসে থামে। এরপর বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেট দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। এর আগেই বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীদের একত্রিত করেন এবং বিজিবিকে খবর দেন। পরে জনসাধারণ ও বিজিবির সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয়দের দাবি, তোপের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে সরিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। আমঝোল সীমান্তের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার বিষয়টি প্রথমে আমাদের নজরে আসে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের লোকজনকে খবর দিই এবং বিজিবিকে জানাই। এরপর কয়েক শ গ্রামবাসী সীমান্তে জড়ো হই। আমাদের সতর্কতা ও বিজিবির উপস্থিতির কারণে তারা সফল হতে পারেনি। অনেকেই রাতভর সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিয়েছেন।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্তে রাতের আঁধারে ১৫ জনকে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। পরে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ। শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রোকনপুর সীমান্তের ২২০/এমপি পিলারের কাছ দিয়ে ১৫ জনকে নদীপথে নৌকাযোগে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এদের মধ্যে দুজন পুরুষ, আটজন নারী ও পাঁচজন শিশু ছিল। এ সময় বিজিবি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলে তারা ভারতের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। পরে রাত পৌনে ৩টার দিকে ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ১৫ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। এদিকে গতকাল বিকালে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মেহেরপুর : পুশইন ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম। অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি সক্রিয় হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশের ২৬টি সীমান্ত জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সীমান্তচৌকি ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি চার শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তসহ কয়েকটি এলাকায় বিএসএফের কথিত পুশইন প্রচেষ্টার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, বিজিবি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, নিরাপত্তা জোরদারে তারাও বিজিবির পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাতভর টর্চলাইট, বাঁশি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় টহলে অংশ নিচ্ছেন গ্রামবাসী। এতে সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতা যেমন বেড়েছে, তেমনি সন্দেহজনক তৎপরতা দ্রুত শনাক্ত করাও সহজ হচ্ছে।
৪৭ কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত তৎপরতায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



