পে কমিশনের বেতন বাড়ানোর সুপারিশে আশার আলো দেখছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কাও। অন্যদিকে বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে-এই আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের জোগান দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো না গেলে সুফলের চেয়ে ভোগান্তিই বেশি হতে পারে।আর মাত্র দুই বছর পর অবসরে যাবেন রাষ্ট্রের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জমির উদ্দিন শেখ। বছরের পর বছর উচ্চমূল্যের বাজারে সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হলেও চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে এসে বেতন বাড়ার খবরে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন তিনি।

পে কমিশনের সুপারিশ

Advertisement

গনমাধ্যমকে জমির উদ্দিন শেখ বলেন, ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজের বেতন, কোচিং ফি, মা-বাবাসহ পুরো পরিবার নিয়ে চলতে গিয়ে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার বেতন বাড়ানোর কথা বললেও কবে থেকে কার্যকর হবে বা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে-সে বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলা হয়নি।পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন আড়াই গুণ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। আর সর্বোচ্চ ধাপে দেড় গুণ বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকার পরিবর্তে এক লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে উপকৃত হবেন প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। একই সঙ্গে বাড়বে পেনশন ও বৈশাখি ভাতার সুবিধাও।

তবে বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া, নিত্যপণ্যের দামসহ আনুষঙ্গিক খরচ যদি আবার বাড়ে, তাহলে বাড়তি আয়ের সুফল টেকসই হবে না-এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বর্তমানে যে পেনশন পাওয়া যায়, তাতে মাসের অর্ধেকও চলা যায় না। পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে কিছুটা উপকার হবে। তবে বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি দ্রব্যমূল্যও বাড়ে, তাহলে সেই সুফল আর থাকবে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে তবেই বেতন বৃদ্ধি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তির খবর হবে।সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেই যখন এমন দ্বিধা, তখন দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান থাকা বেসরকারি খাতের কর্মীদের উদ্বেগ আরও গভীর। তাদের আশঙ্কা, মূল্যস্ফীতি বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও কঠিন হয়ে উঠবে।সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এরমধ্যেই অনেক বেড়ে গেছে। এখন যদি আবার দাম বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ এবং বেসরকারি খাতে কর্মরতরা আরও বিপদে পড়বেন।

বেসরকারি চাকরিজীবীরা বলছেন, বেসরকারি খাতের জন্য ন্যূনতম বেতন বা ভর্তুকির মতো কোনো সমন্বিত নীতিমালা দরকার, যাতে এই খাতের কর্মীরাও চলতে পারেন।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভোগ্যপণ্যের বাজার সহনীয় রাখা জরুরি। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, দেশীয় ও বিদেশি-কোনো খাতেই উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হচ্ছে না। উৎপাদন কার্যক্রমেও গতি নেই, রাজস্ব আদায়ও কম। এতে বেতন কাঠামো বৃদ্ধির প্রভাব আগামী দিনে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ

শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ বাংলাদেশের, ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকার ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দিয়েছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.