মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মাজেদা বেগমের বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান তিনি। শহরের শহীদ রফিক সড়কে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণের কথা শুনে তিনিও এসেছিলেন ত্রাণ নিতে। তবে ত্রাণ পাননি বলে জানান তিনি। মাজেদা বেগমের মতো কয়েকশো দুস্থ ত্রাণ নিতে এসে খালি হাতে ফিরেছেন।
সরজমিনে ( ৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে শহরের শহীদ রফিক সড়কে দেখা গেছে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে দুস্থ ও কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম চলছে। এ উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতা কর্মীরা জড়ো হয়েছেন এ অফিসে। সবার মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্বের দেখা মিলেনি। সবাই নেতা কর্মীদের সাথে ফটোসেশনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নির্ধারিত আলোচনা শেষে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অর্ধশতাধিক দুস্থদের মাঝে ত্রাণ দিতে দেখা গেছে। ত্রাণ বিতরণকালে দেখা গেছে আরো জটলা। একজন ত্রাণ নিতে আসলে তার সাথে নেতাকর্মীরা ফটোসেশনে আরো ব্যস্ত। তবে সেখানে ছিলোনা কোন স্বাস্থ্যবিধি। ত্রাণ নিতে আসা কয়েকশো দুস্থ মানুষ ফিরেছেন খালি হাতে। এ সময় করোনা মোকাবেলায় মাস্ক বুথ উদ্বোধন করেন নেতাকর্মীরা। সেখানেও সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি।

বড় সরুন্ডি এলাকার সিদ্দীক আলী বলেন, রিকশা চালাইয়া কোন রকমে সংসার চালাই। লকডাউনে রাস্তাঘাটে লোকজন কম থাকায় আয় রোজগার কমে গেছে। এলাকার নেতারা বললো এখানে আসলে ত্রাণ পাওয়া যাবে। তাই আসছিলাম, কোন ত্রাণ পাইনি।
দাশড়া এলাকার নাজমা বেগম বলেন, অফিসের ভিতরে অনেকক্ষণ নেতারা বক্তব্য দিলো। কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পর দেখলাম ৩০ থেকে ৪০ জনরে প্যাকেট দিলো। লগে দেখি খালি সবাই ছবি তুলে। নেতারা কয়ডা ছবি তুইল্যা চইলা গেলো। তারপর আর কোন ত্রাণের প্যাকেট দিতে দেখলাম না। শুধু শুধু কষ্ট কইরা ত্রাণ নিতে আইলাম।
রাবেয়া খাতুন বলেন, বয়সের ভারে আর চলতে পারিনা। আয় রোজগারের কোন মানুষও নাই্। যে যা দেয় তাই নিয়া কোন রকমে খাইয়া পইরা বাঁইচা আছি। অফিসে ঢুইক্যা কত কইলাম এক প্যাকেট ত্রাণ দেন। কয় ত্রাণ শেষ অইয়া গেছে। যদি না দিবার পারে ত্যাইলে এতো ছবি তুলার দরকার কি?
এ বিষয়ে জানতে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সাথে যোগাযোগে করলে তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন বলেন, হঠাৎ করে অনুষ্ঠানটি করছে। আমাদের ওভাবে নলেজে ছিলোনা। আমরা পরবর্তী সময় যারা ত্রাণ পাই নাই তাদেরকে দিবো। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তিনি বলেন,এটা খুব খারাপ করছে, আমরা বারবার বলার পরও এটা ( স্বাস্থবিধি) মেইনটেন করে নাই।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, এ অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমাদের অবহিত করেনি। স্বাস্থবিধি মেনে এ ধরনের কার্যক্রম করা উচিত ছিলো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


