নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার উৎসব বাংলাদেশে এক ধরনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সেই চেনা ছবিটি এবারও পূর্ণতা পেল না। বছরের শুরু পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনও সব পাঠ্যবই পায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সময়মতো বই সরবরাহে আবারও ব্যর্থ হলো।
যদিও প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই বিতরণ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে, তবে মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার বই ছাপা ও বিতরণে বড় ধরনের বিলম্ব দেখা দিয়েছে। এনসিটিবির ভাষ্য অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়া দেরিতে শুরু হওয়ায় মুদ্রণ কাজ পিছিয়ে পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বই বিতরণে। এর ফলে শিক্ষাবর্ষ শুরুর সপ্তাহগুলোতেও শিক্ষার্থীদের বইবিহীন অবস্থায় ক্লাসে বসতে হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) এনসিটিবি জানায়, এখনো দুই কোটি ৯২ লাখ ১৮ হাজার ৬০৯টি পাঠ্যবই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। শতাংশের হিসাবে মোট পাঠ্যবইয়ের ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ এখনও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি।
আরও পড়ুনঃ বিএনপি এমন একটি দল, যেখানে আলেম-ওলামারা নিরাপদ: শামা ওবায়েদ
এনসিটিবি অবশ্য আশ্বাস দিচ্ছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই বই বিতরণ সম্পন্ন হবে। তবে বাস্তবতা হলো- এর আগেও একাধিকবার নির্ধারিত সময়ের কথা বলেও সংস্থাটি তা রক্ষা করতে পারেনি, যা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরের (ইবতেদায়িসহ) ১৮ কোটি ৫০ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬৫টি পাঠ্যবই সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ শেষ হবে।
এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণের অগ্রগতি জানিয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটিবি জানায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট পাঠ্যবইয়ের গড়ে ৮৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এনসিটিবি সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর www.nctb.gov.bd
ঠিকানায় সব স্তরের পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশ করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা অন্তত সাময়িকভাবে পাঠ্যসূচির বাইরে না পড়ে।
তবে ডিজিটাল বই থাকলেও বাস্তব শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা ভিন্ন। দেশের অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত, ফলে অনলাইন বই সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে- পাঠ্যবই বিতরণের এই দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ থেকে এনসিটিবি আদৌ কবে বেরোতে পারবে?
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


