জুমবাংলা ডেস্ক : নীলফামারীর জলঢাকায় বনভোজনের মাত্র ৫০ টাকা কম দেয়ায় পঞ্চম শ্রেণির কাজলী রানী রায় নামে এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নতুন বই কেড়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
নতুন বই কেড়ে নেয়ায় ঘটনার দিন থেকে এখনও কান্না থামছে না ওই শিক্ষার্থীর। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা দিনমজুর কৃষ্ণচন্দ্র রায়।
ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ ও সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান ওই বিদ্যালয়ে তদন্ত আসলে ঘটনার সত্যতা পান এবং ওই শিক্ষার্থীকে পুনরায় নতুন এক সেট বই দিয়ে বনভোজনে পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাবরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বুধবার বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকসহ সহকারী শিক্ষকরা।
বনভোজনে শিক্ষার্থী প্রতি বাধ্যতামূলক ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কাজলী রানী রায়ের বাবা দিন মজুর হওয়ায় ২৫০ টাকার বিপরীতে ২০০ টাকা দিলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ৫০ টাকা কম হওয়ায় ক্ষিপ্ত হন। তিনি কাজলী রানীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে কাজলী রানীর হাতে থাকা নতুন বইগুলো কেড়ে নেন।
এ ঘটনায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে কাজলী রানী। শুধু এ অভিযোগ নয়; প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় তুলেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক পুনিলচন্দ্র রায়, মলিনা বেগমসহ অনেকে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন শ্রেণিতে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও টাকা দিতে পারেনি ৫০ জন। মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য এ আয়োজন। বনভোজনে যেতে না পারায় মন খারাপ বাকি শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীর হাত থেকে বই কেড়ে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ৮০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে বনভোজনে যাওয়ার কথা। অনেকে টাকা দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে ৩০ জনকে নিয়ে বনভোজনে গেছি।
তদন্তে আসা সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে শিক্ষা অফিসারসহ তদন্তে গিয়েছিলাম, সবার কথা শুনেছি, লিখিত আকারে ইউএনওকে জানানো হবে।
তদন্তের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মাদ বলেন, কিছু ভুল হয়েছে, আমরা ওই শিক্ষার্থীকে পুনরায় নতুন বই দিয়ে বনভোজনে পাঠিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজাউদ্দৌলার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ও এসএমএস পাঠিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র : যুগান্তর
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


