আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেই আনন্দ থেকে কারাবন্দিদের বঞ্চিত না করার উদ্যোগ নিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন। বন্দিদের মধ্যেও বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক কারাগারের জন্য পাঁচটি ৩২ ইঞ্চি টেলিভিশন উপহার দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে টেলিভিশনগুলো টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়। জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো গ্রহণ করেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলা কারাগারে মোট ১৮টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে আগে থেকেই ১৩টি টেলিভিশন সচল ছিল। বাকি ওয়ার্ডগুলোতে টেলিভিশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্দিদের পক্ষ থেকে নতুন টেলিভিশনের দাবি জানানো হয়েছিল।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হওয়ায় বন্দিদের মধ্যেও খেলা দেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নিয়মিত কারাগার পরিদর্শনের সময় বন্দিরা জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই পাঁচটি নতুন টেলিভিশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কারাগারে টেলিভিশনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্দিরা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো একসঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন। এতে তাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং কারাগারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা মানুষের মানসিক স্বস্তির জন্য বিনোদনের এমন সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, কারাবন্দিরাও সমাজেরই একটি অংশ। তারা সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন হলেও একজন সাধারণ মানুষের মতো তাদেরও কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো একটি বৈশ্বিক আয়োজনের আনন্দ থেকে তাদের সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা উচিত নয়। বন্দিদের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করেই টেলিভিশন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারাও বিশ্বকাপের উত্তেজনা ও আনন্দে অংশ নিতে পারেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই উদ্যোগকে মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তাদের মতে, কারাগার শুধু শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধনেরও একটি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক সুস্থতা, বিনোদন এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের পথ আরও সহজ হতে পারে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে টেলিভিশন প্রদানের এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



