এএফসি নারী এশিয়ান কাপে যাত্রাটা দীর্ঘায়িত করার স্বপ্ন আর জটিল সমীকরণের হিসেব মাথায় নিয়ে শনিবার সিডনি থেকে পার্থের পথে রওনা হয়েছিল বাংলাদেশ দল। এদিন বিকেলে সিডনি থেকে উড়াল দেওয়া দলটি সন্ধ্যার পর পৌঁছায় পার্থে।

যাত্রার আগে দলের কোচিং স্টাফের সদস্য মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল কালবেলাকে দ্বিতীয় রাউন্ডের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথাই জানিয়ে গেলেন, ‘আমরা এখনও হাল ছাড়িনি। গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচ হেরেছি ঠিকই, কিন্তু শুরু থেকেই বলেছি—আমাদের মূল লক্ষ্য উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচ। দলটি শক্তিশালী, আমরা নিজেদের মতো খেলতে পারলে ভালো কিছু অবশ্যই হতে পারে।’
কিন্তু সেই ‘ভালো কিছু’ করতে হলে মিলাতে হবে কঠিন অঙ্ক। তিন গ্রুপে মোট ১২ দল অংশ নিচ্ছে এবারের এএফসি নারী এশিয়ান কাপে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি যাবে পরের রাউন্ডে। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে তিন গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা দুটি। অর্থাৎ বাংলাদেশকে ‘বি’ গ্রুপে তৃতীয় হতে হলে শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারানো বাধ্যতামূলক। শুধু জয়ই যথেষ্ট নাও হতে পারে—গোল গড়ও রাখতে হবে অনুকূলে।
এবার দেখা যাক তিন গ্রুপের দলগুলোর বর্তমান অবস্থান। ‘এ’ গ্রুপ থেকে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া, আর ‘বি’ গ্রুপ থেকে উত্তর কোরিয়া ও চীন ইতোমধ্যে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। ‘সি’ গ্রুপে টানা দুই জয়ে শীর্ষে থাকলেও জাপানের পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়নি। গণিতের হিসেব বলছে, এই গ্রুপের তিন দলই এখনও টিকে আছে লড়াইয়ে। ১০ মার্চ শেষ রাউন্ডে নির্ধারিত হবে তাদের ভাগ্য। এই গ্রুপের তৃতীয় দলও থাকবে সেরা দুই তৃতীয় স্থানের দৌড়ে—যেখানে থাকবে বাংলাদেশও। বলা বাহুল্য, প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে ৬ দল যাবে পরের রাউন্ডে। তাদের সঙ্গী হবে তিন গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে থেকে সেরা দুটি।
‘সি’ গ্রুপের একটি দল ছাড়াও ফিলিপাইন, ইরান ও উজবেকিস্তান এখনও দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। লাল-সবুজদের টিকে থাকতে হলে প্রথম শর্ত—উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে জয়। ফিফা র্যাংকিং দেখলে কাজটা কঠিনই মনে হয়। উজবেকিস্তান যেখানে ৫১ নম্বরে, বাংলাদেশ সেখানে ১২৮! র্যাংকিং যে সবসময় মাঠের বাস্তবতা বলে না, তার প্রমাণ বাংলাদেশ আগেই দিয়েছে। গত বছরের এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে র্যাংকিংয়ে ৫৪তম স্থানে থাকা মিয়ানমারকে তাদের মাঠেই হারিয়ে মূলপর্বের টিকিট পেয়েছিল লাল-সবুজরা।
এবারও সেই বিশ্বাসই বড় শক্তি। র্যাংকিংকে সংখ্যা প্রমাণ করে আবারও দেখাতে হবে—মাঠের লড়াটাই শেষ কথা! গোল গড়ের হিসেব মিলিয়ে যদি দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারে বাংলাদেশ, ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো কোন অভিষিক্ত দল এমন কীর্তি গড়বে। ১৯৮৬ সালে অভিষেক আসরে কেবল দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেনি, চীন জিতেছিল আসরের শিরোপাও। পিটার বাটলারের দল কি পারবে ইতিহাস ছুঁতে—এখন অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াইয়ের।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


