বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে, সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়ায়। বিশেষ করে জাতীয় উৎসবের সময়গুলোতে তারা তাদের দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।
সাতক্ষীরায় ভেঙে পড়া বেরিবাঁধে সেনাবাহিনীর দ্রুত তৎপরতা
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে ঈদের দিন সকালে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৫০ ফুট এলাকাজুড়ে প্লাবিত হয়। এতে নিম্নাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই সংকটের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়। আইএসপিআর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা আর্মি ক্যাম্পের কর্মকর্তারা ডিসি, ইউএনও এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিদর্শনে যান এবং ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
Table of Contents
বর্তমানে দুটি পেট্রোল টিম স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধ মেরামতে সর্বাত্মক সহায়তা করছে। ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সেখানে পাঠানো হয়েছে, যারা রিং বাঁধ নির্মাণেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ঢাকা ও আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর তৎপরতা
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং মহাসড়কে সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করেছে। ৯ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা আশুলিয়া, বাইপাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছেন এবং যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা দিনরাত টহলের পাশাপাশি চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছেন, যেখানে প্রতিটি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও যাত্রীবাহী পরিবহন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশও যুক্ত রয়েছে। এতে করে ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ে জননিরাপত্তায় সেনাবাহিনী
ঈদের আগে ও পরে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলায় সেনাবাহিনী ট্রাফিক কন্ট্রোল, বাজার নিরাপত্তা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত টহল দিয়েছে। কুড়িগ্রামের শাপলা চত্বর, ঠাকুরগাঁওয়ের বাসস্ট্যান্ড, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা প্রভৃতি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে।
এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেনাবাহিনী স্থানীয় চালক ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলেছে। অনেকেই সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, “এবারের ঈদে যানজট বা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয়নি। সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।”
ঈদ উপহার ও মানবিক সহায়তা
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঢাকার সিএমএইচসহ বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পাশাপাশি তিনি সম্প্রতি ভাষানটেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেন।
এই ধরনের মানবিক সহায়তা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এটি সেনাবাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সাতক্ষীরায় কালোবাজারি রোধে সেনাবাহিনীর অভিযান
ঈদ পরবর্তী যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সাতক্ষীরার পরিবহন কাউন্টারগুলোতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। কালোবাজারি টিকিট বিক্রির অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রভাব
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জাতীয় নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঈদের এই উৎসবমুখর সময়েও তারা পরিবারের সঙ্গে না থেকে দেশের মানুষের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারছে।
FAQs
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঈদের সময় কোন কোন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে?
ঢাকা, সাতক্ষীরা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁওসহ সারা দেশে। - বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী কী ভূমিকা নিয়েছে?
তারা রিং বাঁধ নির্মাণ, পেট্রোল টিম এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়ন পাঠিয়ে মেরামতের কাজ চালিয়েছে। - সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া কেমন?
মানুষ সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে সন্তুষ্ট এবং নিরাপত্তা ও যানজট কমে যাওয়ায় তারা প্রশংসা করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সেবার প্রতীক হিসেবে ঈদের সময় তাদের দায়িত্বের অটল প্রমাণ রেখেছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে তাদের সক্রিয়তা দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সেনাবাহিনীর এমন ভূমিকা ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
সেনাপ্রধানের ঈদ উদযাপন এবং চেকপোস্ট নিয়ে তদন্ত সংক্রান্ত আরও সংবাদ পড়ুন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।