বুলগেরিয়ার মনোবিজ্ঞানী ও ‘বলকানের নস্ত্রাদামুস’ খ্যাত বাবা ভাঙ্গা ২০২৫ সাল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘বছরের শুরুতে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হবে’। সম্প্রতি মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যাতে প্রায় ২,৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অনেকের কাছেই এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রমাণ হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায় না, তবু অনেকেই বিশ্বাস করেন বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অলৌকিকভাবে সত্যি হতে শুরু করেছে।
বাবা ভাঙ্গার অতীতের ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর সত্যতা
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীর ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তিনি ৯/১১ হামলা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু, চেরনোবিল দুর্ঘটনা এবং ব্রেক্সিটের মতো উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর কথা আগে থেকেই বলেছিলেন বলে দাবি করা হয়। এসব ঘটনাই তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। যদিও প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণীই ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল এবং নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার সঙ্গে সরাসরি মিল পাওয়া কঠিন, তবে সময়ের সঙ্গে মিলে গেলে তা আলোচনার ঝড় তোলে।
Table of Contents
২০২৫ সালের জন্য ভাঙ্গার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস
দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা ভাঙ্গার মতে, ২০২৫ সাল হবে মানবতার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের বছর। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী:
- ইউরোপে একটি বড় ধরনের সংঘাত দেখা দেবে, যা মহাদেশটির জনসংখ্যার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
- বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
- মানবতার পতনের সূচনা হবে এই বছর থেকে, যা শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে ৫০৭৯ সালে।
এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। ইউরোপে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক মন্দা, ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এসব ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।
ভবিষ্যদ্বাণীর সময়রেখা: ২০২৫ থেকে ৫০৭৯ পর্যন্ত
বাবা ভাঙ্গা কেবল ২০২৫ সাল নয়, ভবিষ্যতের অনেক বছর নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ পূর্বাভাস দিয়েছেন। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য বছর ও ঘটনাগুলো দেওয়া হলো:
- ২০২৮: মানুষ শুক্র গ্রহে শক্তির উৎস খোঁজার জন্য অনুসন্ধান শুরু করবে।
- ২০৩৩: মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে।
- ২০৭৬: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমিউনিজম ফিরে আসবে।
- ২১৩০: মানবজাতি বহির্জাগতিক প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে।
- ৩০০৫: পৃথিবী ও মঙ্গলের সভ্যতার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হবে।
- ৩৭৯৭: পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং মানুষ অন্য গ্রহে পাড়ি জমাবে।
- ৫০৭৯: পৃথিবীর চূড়ান্ত ধ্বংস সাধিত হবে।
এই সময়রেখা নিঃসন্দেহে রোমাঞ্চকর এবং কল্পবিজ্ঞানপ্রিয়দের জন্য দারুণ আগ্রহের বিষয়।
বিশ্ববাসীর আগ্রহ ও সমালোচনার মুখে বাবা ভাঙ্গা
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা যেমন চলছে, তেমনি রয়েছে ব্যাপক সমালোচনাও। অনেকে মনে করেন, এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কেবল কাকতালীয় এবং সময় ও ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করা সহজ বলেই তা মিলে যায়।
অন্যদিকে, বহু মানুষ তাঁর কথায় আস্থা রাখেন এবং তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে অনুসরণ করে নিজেদের জীবনযাপনকে প্রস্তুত রাখতে চান।
ভবিষ্যদ্বাণীকে কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত?
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে মূল্যায়ন করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন:
- এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর বেশিরভাগই প্রমাণ সাপেক্ষ নয়।
- অনেক সময় ভবিষ্যদ্বাণী ও বাস্তব ঘটনার মধ্যে সংযোগ তৈরি করা হয় অনুধাবনের ভিত্তিতে।
- ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সাধারণত বিমূর্ত, যা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
তবে এটাও সত্য যে, মানুষের মধ্যে অজানা ভবিষ্যতের প্রতি আগ্রহ চিরন্তন এবং এ কারণেই বাবা ভাঙ্গার মতো ভবিষ্যদ্বক্তারা সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন।
FAQs – পাঠকের সাধারণ প্রশ্নোত্তর
- প্রশ্ন: বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কি বিজ্ঞানসম্মত?
- উত্তর: তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বিজ্ঞানসম্মত নয়, বরং তা চেতনা, উপলব্ধি এবং দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
- প্রশ্ন: ২০২৫ সালের ভূমিকম্প কি তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে মিলে গেছে?
- উত্তর: অনেকে মনে করেন এটি মিলে গেছে, তবে কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই।
- প্রশ্ন: তিনি কীভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতেন?
- উত্তর: বাবা ভাঙ্গা দাবি করতেন তিনি অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দেখতে পান।
২০২৫ সালের ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বাবা ভাঙ্গা। তাঁর অনেক পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে মিলে গেলেও তা সত্য নাকি কাকতালীয়, সেটি নির্ধারণ করা কঠিন। তবে এটি স্পষ্ট, তিনি এমন একটি নাম যা মানুষের মনে কৌতূহল ও রহস্যের জন্ম দেয়।
আপনি চাইলে আমাদের ভূমিকম্পে নিহতের খবর এবং ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কিত আরও তথ্য পড়তে পারেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।