
জুমবাংলা ডেস্ক : বাসায় ডেকে নিয়ে নারীর সঙ্গে আইনজীবীর আপত্তিকর ছবি তুলে ও ভিডিও করে চাঁদা দাবি করেছে প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলা ফোকরা ও ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় একজন আইনজীবী র্যাব ক্যাম্পে এসে লিখিত অভিযোগ করেন যে, একজন ভুক্তভোগী তার নামে হওয়া একটি মামলা পরিচালনা করার বিষয়ে আলোচনার জন্য তার বাসায় যেতে বলেন।
আইনজীবী তাকে তার চেম্বারে আসতে বলেন। বিষয়টি গোপনীয় ও পারিবারিক উল্লেখ করে চেম্বারে আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে আইনজীবীকে তার বাসায় যেতে অনুরোধ করেন।
আইনজীবী সরল বিশ্বাসে তার বাসায় যান। তখন তার বাসায় ভুক্তভোগী ছাড়াও আরো একজন নারী উপস্থিত ছিলেন। পরে উক্ত বাসায় হঠাৎ চারজন যুবক লোহার রড ও চাপাতিসহ প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক একজন নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে। পরবর্তীতে উক্ত ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
ভুক্তভোগী ওই আইনজীবী ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পে অবহিত করে সহায়তা চাইলে র্যাব বিষয়টির ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে যে, এ ঘটনার সঙ্গে ফরিদপুরের সালথার মো. ফিরোজ মল্লিক (২১), সালথার ময়েনদিয়ার পারভীন আক্তার সাথী (২৭), সালথার তুঘলদিয়ার মো. রবি হাসান রানা (১৯) ও ঢাকার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার লাবিবা আক্তার (২১) জড়িত। তারা ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর মহল্লার ফয়সালের বাসায় ভাড়া থাকেন।
ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক দেবাশীষ কর্মকার বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ফোকরা গ্রাম থেকে মো. ফিরোজ মল্লিক ও পারভীন আক্তারকে এবং ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুরে ভাড়া বাসা থেকে মো. রবি হাসান রানা ও লাবিবা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা একটি প্রতারক চক্র। কখনো প্রেমের অভিনয়, কখনো কাজের কথা বলে তারা বিভিন্ন সময় পুরুষদের বাসায় ডাকে এবং অন্যান্য সহযোগীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, এ ব্যাপারে মঙ্গলবার সকালে কোতয়ালী থানায় চাঁদাবাজি ও পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছেন ওই আইনজীবী। এ মামলায় দুই নারীসহ ওই চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিকালে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


