জুমবাংলা ডেস্ক : রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত লাবলু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর থেকে বদরগঞ্জ পৌর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শনিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে সকালে বদরগঞ্জে বিএনপির দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত হন তিনি। নিহত লাবলু মিয়া বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর রাজারামপুর এলাকার মহসিন আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিএনপি নেতা ইসতিয়াক বাবুর কাছ থেকে চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে শহীদ মিনার এলাকার একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়েছিলেন জাহিদুল নামের এক ব্যক্তি। চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ না হলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে দোকানটি ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি দোকান ছেড়ে না দেওয়ায় মালিক পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকদিন আগে ভাড়াটিয়ার দোকান ভাঙচুর করে তাকে বের করে দেয়।
এ নিয়ে শনিবার সকালে জাহিদুল তার ভাড়া নেওয়া দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে শহীদ মিনারে মানববন্ধনের আয়োজন করে। কিন্তু মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই দোকান মালিক ইসতিয়াক বাবরের পক্ষে সাবেক এমপি, জেলা ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন করিব মানিকের প্রায় দুই শতাধিক লোকজন এসে মানববন্ধনের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচার মাইক ভেঙে দেয়।
এর কিছুক্ষন পর ভাড়াটিয়া জাহিদুল ইসলামের পক্ষে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম মানিকের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোকজন এলে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, ছোরা-বল্লম, তীর-ধনুক নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া ও পাল্টাধাওয়া দেয়। প্রায় একঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে লাবলু মিয়া (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪৫), মোন্নাফ মিয়া (৫৫), ময়নাল হোসেনকে (৩৬) উদ্ধার করে প্রথমে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাবলু মিয়া (৫০) মারা যান।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় সাংবাদিক ফুয়াদ হাসান, নুরুন্নবী নুরু ও সাইফুল ইসলাম মুকুলকে মারধর করে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সর্দার সেলিম মিয়া বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় দুপুরে লাবলু মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে তার লাশ হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।
বদরগঞ্জ থানার ওসি এ. কে. এম. আতিকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্তকরার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।