
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হলেন মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগজিস্তানের প্রেসিডেন্ট সুরনবাই জেনবেকোভ। টানা ১০দিন ধরে দেশটির মানুষ ও বিরোধীদল তাঁর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অকর্টোবর) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট সুরনবাই জেনবেকোভ বলেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ হোক এটা তিনি চান না। আর তাই ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত ৪ অক্টোবর দেশটির সংসদ নির্বাচন হয়। এরপর নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে ৫ অক্টোবর থেকে রাজধানী বিশকেকে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা দেশটির পার্লামেন্ট ভবন ভাঙচুর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করে।
দুর্নীতির দায়ে রাজধানী বিশকেকে বন্দি বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভকে মুক্ত করেন বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট সুরনবাই জিনবেকোভের কার্যালয়ে ঢুকে কাগজপত্র জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলে দেন। ওই সময় ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়।
কিরগিজস্তানের পার্লামেন্ট সুপ্রিম কাউন্সিলের মোট আসন সংখ্যা ১২০টি। দেশটির আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন বন্টন করা হয়। তবে পার্লামেন্টে কোনো দলকে আসন পেতে হলে অবশ্যই সেই দলকে ন্যূনতম ৭ শতাংশ ভোট পেতে হবে।
এবারের সংসদ নির্বাচনে দেশটির ১৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র চারটি আইন অনুযায়ী নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই চারটি দলের মধ্যে অন্তত তিনটির সঙ্গে রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট সুরনবাই জেনবেকোভের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে দুটি দল ২৫ শতাংশ করে ভোট পেয়েছে।
এমতাবস্থায় কিরগিজস্তানের বিরোধী দলগুলো ভোটের ফলাফল প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়ে ফলাফল বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানায়। শনিবার পার্লামেন্ট নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাপারভের নাম ঘোষণা করলেও মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট জিনবেকভ ওই মনোনয়নে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


