জুমবাংলা ডেস্ক: চলতি বছরে সরকারের ঘোষণা করা সর্বাত্মক লকডাউন বা বিধিনিষেধের প্রথম দফা শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই আসল নতুন করে আরো এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। খবর বিবিসি বাংলার।
রবিবার রাতে এক বৈঠক করে চলমান লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করে সরকারের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
করোনা পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে পৌঁছায় সেটা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে পরামর্শ দেয়া হবে বলে জানাচ্ছে সরকারের এই কমিটি।
কমিটির সভাপতি ড. মো.শহীদুল্লাহ বলেন বিজ্ঞানভিত্তিক-ভাবে দুই সপ্তাহের লকডাউন কার্যকর হয়। আর সে কারণেই বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আরো এক সপ্তাহের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন “এখন লকডাউনটা এক সপ্তাহের যেটা দেয়া হয়েছিল সেটা কিছু সুফল দেবে কিন্তু যদি আমি আরেকটু বেশি আকারে সুফল পেতে চাই তাহলে আমি দুই সপ্তাহের লকডাউন যদি দিই, তাহলে ঐ সময়ে সংক্রমিত লোকজন যদি ঘরে থাকে তাহলে অন্যকে সংক্রমিত করতে পারবে না।”
“তখন অটোমেটিক্যালি দেখা যাবে সংক্রমণের হার কমছে। বিজ্ঞানভিত্তিক-ভাবে বলা হয় দুই সপ্তাহের লকডাউন কার্যকর হয়, এক সপ্তাহের নয়,” বলেন মি. শহীদুল্লাহ।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
কারিগরি কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে স্বাস্থ্য, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।
খোলা রাখা জরুরি সেবার তালিকাও প্রকাশ করার অনুরোধ করা হয়।
আরো এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়িয়ে সরকার কী অর্জন করতে চাচ্ছে?
সরকারের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি মি. শহীদুল্লাহ বলছেন, একটা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবধর্মী চিন্তা থেকে এই লকডাউন দেয়া হচ্ছে, যাতে করে করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
তিনি বলছেন “আজকে আমরা বলছি জীবন আগে তারপর জীবিকা। কিন্তু জীবিকাকে-তো একদম বাদ দেয়া যাবে না। এই দুই সপ্তাহের লকডাউন যদি একমাস করতে পারতাম তাহলে আরো বেশি ভালো ফলাফল পেতাম। কিন্তু সেটা কি বাস্তবধর্মী হত?” প্রশ্ন রাখেন তিনি।
মি. শহীদুল্লাহ বলেন “একটা ছোট দেশে কোটি কোটি মানুষের অসংখ্য রকম সমস্যা। আমাদের অর্থনীতি উন্নত বিশ্বের মত অত শক্তিশালী নয়। সবকিছু বিবেচনা করে, একটা দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে যেটা বাস্তবসম্মত হয়, সেটাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
এ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সরকার নানা রকম বিধিনিষেধ জারি করে। তবে দৃশ্যত সেসব পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়।
গণ-পরিবহন, অফিস, শপিং-মল খোলা থাকায় মানুষ কার্যত সেইসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজিস্ট সাবেরা গুলনাহার আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি লকডাউনটা যদি মানুষজন নিজেরাই কঠোরভাবে মেনে চলে তাহলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে ।
সরকারের এই পরামর্শ কমিটি বলছে, সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।
এদিকে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ঈদের আগে লকডাউন শিথিল করার চিন্তা আছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


