চলমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ইতিহাস গড়েছে। একই সঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়েছে রুপার দামও।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩৩ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে যা রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪০ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
একই দিনে রুপার বাজারেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) দেখাচ্ছে যে মুদ্রাস্ফীতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বছরভিত্তিক হিসাবে এটি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বাজারে ফেডের আরও নীতি শিথিল করার প্রত্যাশা টিকে আছে।
ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল ভোক্তা মূল্যসূচক মাসভিত্তিক শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং বছরভিত্তিক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ও ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়ে কম। ডিসেম্বরের জন্য মার্কিন উৎপাদক মূল্যসূচকের তথ্য দিনের শেষের দিকে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যানকে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে ‘অর্থপূর্ণভাবে’ সুদের হার কমানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাওয়েলকে তদন্তের সিদ্ধান্তের খবরে সমালোচনার মুখে পড়ে ফেড। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ও শীর্ষ ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা পাওয়েলের প্রতি সমর্থন জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং মার্কিন সম্পদের ওপর আস্থার ঘাটতি স্বর্ণের মতো নিরাপদ আশ্রয় সম্পদের চাহিদা বাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা চলতি বছর দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর আশা করছেন, যার প্রথমটি হতে পারে আগামী জুনে।
নিম্ন সুদের হার এবং ভূ-রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদ ভালো ফল দেয়। এএনজেড ব্যাংক এক নোটে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপরে লেনদেন হতে পারে।
এদিকে গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, রুপার ক্ষেত্রে পরবর্তী বড় লক্ষ্য ১০০ ডলার। চলতি বছর ধাতুটির দামে দুই অঙ্কের উচ্চ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ
অন্য ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৪১৫ দশমিক ৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ২৯ ডিসেম্বর প্লাটিনামের দাম রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৮ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। একই দিনে প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


