Advertisement

জিন্নাতুন নূর: বিয়ের মৌসুমেও কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবসায় ধস চলছে। চলমান করোনা মহামারীতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ না হলেও এক প্রকার বন্ধের পথে দেশের কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন হলের ব্যবসা। গত মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এই খাতের ব্যবসা ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, বিয়ের মৌসুম শুরু হলে করোনা আতঙ্কে এবার তারা বুকিং পাচ্ছেন না। হাতেগোনা চার-পাঁচটি বুকিং যাও পাচ্ছেন সেটিও মাঝে মধ্যে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। করোনার আগে যারা বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই সেন্টার ভাড়ার অগ্রিম টাকা ফেরত নিয়ে গেছেন। মাত্র ৫ শতাংশ বুকিং বাদ না দিয়ে অনুষ্ঠানের তারিখ বদলে নিয়েছেন। সেন্টার মালিকরা আশঙ্কা করছেন, করোনার ভ্যাকসিন না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর প্রথম কয়েক মাস সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিয়েসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। লকডাউন তুলে নেওয়ার পর জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করলে গত অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কমিউনিটি সেন্টারের ব্যস্ততা আবার বেড়ে যায়। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আগেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এই শীতে বিয়ের মতো অনুষ্ঠান আয়োজন না করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। আবার আতঙ্ক থাকায় মানুষজনও কমিউনিটি সেন্টার বুকিং নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের চেয়ে এ বছর ব্যবসা ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। আগে একটি কমিউনিটি সেন্টারে যেখানে ডিসেম্বর মাসে দিনে-রাতে মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০টি বিয়ের আয়োজন করা হতো সেখানে এখন মাত্র চার থেকে পাঁচটি বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। এমনকি এসব বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা তুলনামূলক কম।

ব্যবসায়ীরা জানান, এই খাতে ক্ষতি বিশাল। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা বা প্রণোদনা পাচ্ছেন না। এমনকি ব্যাংক থেকে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ঋণ পর্যন্ত দেওয়া হয় না। সরকার চাইলে এ খাতের ব্যবসায়ীদের থোক বরাদ্দ দিয়ে সাহায্য করতে পারে। তারা আরও জানান, সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এখন তারা সেবা দিচ্ছেন। বিশেষ করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, বডি স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওয়েটারদেরও বাধ্যতামূলকভাবে হেডক্যাপ, মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পারানো হচ্ছে। বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি এবং নিউ প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারের মালিক জাকির হোসেন বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত আমাদের ব্যবসার ভরা মৌসুম। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হলেও করোনা সংক্রমণ পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে ব্যবসা আবারও পড়তে শুরু করেছে। আমাদের হলে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আগে যেখানে এক বছর আগে বুকিং দিতে হতো সেখানে এখন মাসে মাত্র চার-পাঁচটা বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। ধানমন্ডির ইমান্যুয়েলস কনভেনশন সেন্টারের মালিক বেনজির আহমেদ বলেন, ডিসেম্বরে স্বাভাবিক সময়ে আমাদের যে পরিমাণ বুকিং থাকত এবার করোনার কারণে তার ছয় ভাগের মাত্র এক ভাগ বুকিং পাচ্ছি। হাতেগোনা যে কয়টি বুকিং পাচ্ছি সেখানেও সমস্যা। আগে যেখানে ছয়শ অতিথির তালিকা থাকত করোনায় অতিথিরা আসবেন না এমন চিন্তা থেকে তা দেড়শ বা দুইশতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন শুরু করেছে রাওয়া। অন্যান্য কমিউনিটি সেন্টার ও হলের মতো বিগত মাসগুলোতে এই কনভেনশন হলেও বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় গত সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বিয়ের বুকিং নিতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বুকিংয়ের হার কমে গেছে। চলতি ডিসেম্বরে মাত্র তিন দিন ছাড়া বাকি দিনগুলো রাওয়ায় কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন নেই। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.