কদিন ধরেই রোদের তেজ আর গুমোট গরমে জনজীবন একেবারে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল। ঘরের বাইরে বের হলেই আগুনের হলকা যেন শরীর পুড়িয়ে দিচ্ছিল। অবশেষে সেই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে কিছুটা মুক্তির খবর শোনাল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের চারটি বিভাগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে, যা তপ্ত প্রকৃতিতে কিছুটা হলেও শীতল ছোঁয়া বুলিয়ে দেবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর আর তৎসংলগ্ন স্থলভাগে বাতাসের লঘুচাপের যে বিন্যাস তৈরি হয়েছে, তা বৃষ্টির জন্য বেশ অনুকূল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ অবস্থান করায় মেঘ জমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ চমকানোসহ ঝোড়ো বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও আবার শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া অফিস।
রাজশাহী, পাবনা কিংবা যশোরের মতো উত্তরের জেলাগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। গতকাল তো রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। তবে আশার কথা হলো, বৃষ্টির এই নতুন প্রবাহ শুরু হলে এসব অঞ্চলের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের তাপমাত্রা প্রায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাতেও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখবে।
আজ সকাল থেকেই ঢাকার আকাশে রোদের প্রখরতা থাকলেও বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে বেশ ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মেঘের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। গত একদিনে ময়মনসিংহে দেশের সর্বোচ্চ ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঢাকার আকাশে দক্ষিণা বাতাস বয়ে যাওয়ার কারণে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বাড়ছে, যা দুপুরের পর থেকেই মেঘের ঘনঘটা তৈরি করতে শুরু করেছে।
সাধারণ মানুষের কাছে এই বৃষ্টি এখন আশীর্বাদের মতো। বিশেষ করে যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন বা কর্মব্যস্ত মানুষ, তাদের জন্য এই স্বস্তির বাতাস অনেক বড় পাওয়া। এই পরিবর্তন কেবল তাপমাত্রা কমাবে না, বরং ধুলোবালি ও ভ্যাপসা গরমের কারণে যে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেও সাময়িক মুক্তি দেবে। ঝোড়ো হাওয়ার তীব্রতা কিছুটা থাকলেও বৃষ্টির শীতল আমেজই এখন সবার কাম্য।
আরও পড়ুনঃ টাইম ম্যাগাজিনে প্রধানমন্ত্রীর স্থান পাওয়া দেশের জন্য গৌরবের : মাহদী আমিন
বর্ষার আগের এই কালবৈশাখী ঢঙের বৃষ্টি প্রকৃতিতে সতেজতা ফিরিয়ে আনবে এটাই স্বাভাবিক। তবে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি বা বজ্রপাতের কথা মাথায় রেখে সবাইকে কিছুটা সতর্ক থাকাও প্রয়োজন। আজকের এই বৃষ্টির হাত ধরে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার মেজাজ কিছুটা নরম থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক পশলা বৃষ্টি জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনুক, এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


