জুমবাংলা ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড লিমিটেডের ছয়তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এখন পর্যন্ত অর্ধশত মানুষের মৃতদেহ আবিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনায় তৃতীয় দিনের উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। এর আগে ৮ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হলে ৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হাসেম ফুডসের ভবনের সামনে চলছে স্বজনদের আহাজারি। সেখানেই দেখা মিলে এক কিশোরের। ১০-১২ বছরের সেই কিশোরের নাম নাজমুল। কিশোর নাজমুল মা নাজমা বেগমের সাথে কাজ করতেন হাসেম ফুডসের কারখানায়।
অগ্নিকাণ্ডের দিনেও মায়ের সাথে কাজে গিয়েছিলেন ছেলে নাজমুল। ভাগ্যবলে নাজমুল কাজ শেষে বাড়ি ফিরলেও ফেরা হয়নি তার মায়ের। বাড়ি ফেরা নাজমুল জানান, ‘কাজ শেষে সেদিন ৪ টায় বাড়ি ফেরার আগে আম্মুর কাছে দিয়েছিলাম। কিন্তু আম্মুকে না পেয়ে ভেবেছিলাম বাসায় ফিরে আম্মুকে কল দিয়ে তা জানাবো। বাসায় ফিরে আম্মুকে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেনি। পরে পাশের বাসার একজনের কাছে জানতে পারি সেজান বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছে।’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে নিজ মাকে খুঁজে পাননি ছোট্ট নাজমুল। সাংবাদিকদের কাছে নিজের মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে নাজমুল বলেন, ‘যেমনেই হোক স্যার আমার আম্মুকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন। আমার আর কিছু লাগবে না, শুধু আম্মুকে ফিরিয়ে দেন।’
বাসায় ছোট বোন রেখে আসা নাজমুল আরও বলেন, ‘আমার ছোট বোন শুধু মায়ের কথা জিজ্ঞেস করছে। তাকে আমি কি উত্তর দেবো জানা নাই। সে শুধু বলে, ভাইয়্যা দুইদিন হয়ে গেছে আম্মু আসে না কেন? আম্মুর কি ডিউটি শেষ হয় নাই? আমার কাছে এর কোনো উত্তর নাই স্যার। আমি শুধু আমার আম্মুকে চাই স্যার। আমার কিছু দরকার নাই। আমার ওভারটাইম, বেতন কিছু লাগবে না, শুধু আম্মুকে এনে দেন স্যার।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


