বেরোবি প্রতিনিধি : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের শিবির সমর্থিত ‘বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদ’ প্যানেলের শহিদ মুখতার ইলাহী হলের ভিপি পদপ্রার্থী সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছ কাটার টেন্ডার নিতে তদবির করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার (১৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট রুমে একটি আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান সাকিবের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন। তবে টেন্ডারটির নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হওয়ার কারণে উপাচার্য ইতোমধ্যে নিলামটি বাতিল করেছেন এবং নিলাম ক্রেতাকে শোকজ করেছেন।
অভিযোগ তুলে প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত গাছ কাটার টেন্ডারটি আমরা মোকলেসকে ৫৫ হাজার টাকায় দেওয়ার পরে সাকিব অন্যজনকে ৬০ হাজার টাকায় দেওয়ার জন্য আমাকে বলেছিলেন। কিন্তু আমরা একজনকে কথা দিয়ে দেওয়ার কারণে দিতে পারেনি”
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন বলেন, গাছ কাটার টেন্ডারকে কেন্দ্র করে শিবির নেতা সাকিব বিপুল পরিমাণ টাকার তদবির করেছেন। টেন্ডার না পেয়ে তিনি মসজিদের সামনে থাকা গাছ কেটে ঈদগাহ মাঠ ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করে বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এমন কর্মকাণ্ড সত্যিই অত্যন্ত লজ্জাজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের টেন্ডারবাজি, হল দখল ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড কখনোই কাম্য নয়। শিবির নেতা ও শহীদ মুখতার ইলাই হল শাখার ভিপি প্রার্থী সাকিবের সঙ্গে যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে হল দখল, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি ও বহিষ্কারের কথা বলা আছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দখলদারিত্ব চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজির অপরাধনীতি বন্ধ হয়ে সুষ্ঠ শিক্ষাথী বান্ধব রাজনীতি চলতে হবে এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরো দৃঢ় হতে হবে। অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স একশন নিতে হবে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিব বলেন, “নিলামের নিয়ম অনুযায়ী নিলামে সর্বোচ্চ দর দাতাকেই টেন্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু আমি শহীদ মুখতার ইলাহী হলের গার্ড মনোয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে শুনলাম জহুরুল নামে মডার্নের এক কাঠ ব্যবসায়ী ৬০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দাম করার পরেও উনাকে টেন্ডার দেওয়া হয়নি। ৫০০০ টাকা কমে ৫৫ হাজার টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মোকলেছ কে প্রক্টর স্যার টেন্ডার দেয়। আমি অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি মাত্র। আমি ব্যক্তি-স্বার্থে কাউকে টেন্ডার পেয়ে দেওয়া জন্যে সুপারিশ করি নি বরং নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দর দাতাকে টেন্ডার দেওয়ার জন্যে বলেছি।আমার অসৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকলে আমি নিজেই প্রক্টর স্যারের সাথে আমার কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করতাম না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরে আমার কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই ও আমি কোনো নেতা-কর্মী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের যে প্যানেল থেকে আমার জয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি মনে হয়েছিলো। আমি সেই প্যানেল থেকে নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছি।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


