
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত প্রথম শুভেচ্ছা বৈঠকে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
বিকেলে প্রথমবার মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে ভবনের বাইরে তাঁর ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। ব্যানারটি কে টানিয়েছেন তা জানতে চেয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের জন্য ব্যানার থাকতে পারে, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের এমন কাজে জড়ানো উচিত নয়। আপনাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে।’
বৈঠকে পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশের চেইন অব কমান্ড কোনোভাবেই ভাঙা যাবে না। কোনো থানার ওসি যেন সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন, সেই নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি কাজ নির্ধারিত ধাপ বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের তদবির বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।
বিগত সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অতীত নিয়ে আমি পেছনে তাকাতে চাই না। আমি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছি, কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়া।’ তিনি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন থেকে কেবল কাজের মাধ্যমেই সবার মূল্যায়ন করা হবে।
জনভোগান্তি কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। প্রতিবাদ বা সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রে অন্তত রাস্তার এক লেন সচল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। জনগণকে অযথা ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবগণসহ ডিএমপি কমিশনার এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রী মন্ত্রণালয় পরিচালনার ধরন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



