ঈদের পর বদলে গেছে ব্রয়লার মুরগির বাজারব্রয়লার মুরগির দাম সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, বিশেষত পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে। রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউ মার্কেট ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে ঈদের আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ২৪০ টাকা, এখন তা নেমে এসেছে ২০০-২১০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কমে যাওয়ার এই পরিবর্তন ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার করেছে।
মূলত চাহিদা হ্রাস এবং সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এই মূল্যহ্রাস ঘটেছে। রমজানের পরের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেও বোঝা যাচ্ছে, ঈদের ছুটির পরে অনেক মানুষ শহরে ফিরে না আসায় বাজারে চাপ কমেছে।
Table of Contents
ব্রয়লার মুরগির দাম কমার পেছনের কারণ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দামের পতনের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ:
- ঈদের পর রাজধানীতে অনেক মানুষ এখনো না ফেরায় চাহিদা কম।
- পাইকারি বাজারে মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে এসেছে।
- মাংস বিক্রেতাদের মতে, খুচরা বাজারেও সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
একজন মাংস বিক্রেতা জিল্লুর রহমান বলেন, “বাজারে এখন মুরগির চাহিদা নেই বললেই চলে। সে কারণেই দাম কিছুটা কমে এসেছে এবং আমরা পাইকারি বাজার থেকে কম দামে আনায় খুচরা বিক্রেতারাও কম দামে বিক্রি করছি।”
এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী এখনও ঈদের ছুটিতে গ্রামে অবস্থান করছেন, ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা কম হওয়ায় দাম কমেছে। গরুর মাংসের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে এই পরিবর্তনও সম্পর্কিত।
সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের দামেও পরিবর্তন
শুধু ব্রয়লার মুরগিই নয়, ঈদের পরে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু গরুর মাংস এবং সোনালি মুরগির দামে হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিকেজি সোনালি মুরগি বর্তমানে ২৮০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে ঈদের আগে তা ৩৫০ টাকার কাছাকাছি ছিল।
মাছের বাজারে যদিও দাম কিছুটা বেড়েছে, তবুও এটি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে চাষের মাছ যেমন পাঙাশ ও তেলাপিয়া প্রতি কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মূল খাদ্যদ্রব্যে প্রভাব পড়ছে কি?
ব্রয়লার মুরগির দাম কমার ফলে রেস্টুরেন্ট ও হোটেল খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রান্না করা খাবারের দামেও প্রভাব পড়তে পারে যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে। USDA অনুসারে, খাদ্যপণ্যের মূল্য নির্ধারণে সরবরাহ এবং চাহিদা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
চলতি সপ্তাহে বাজারে সম্ভাব্য পরিবর্তন
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ছুটির শেষে মানুষ ধীরে ধীরে শহরে ফিরে আসবে এবং তখন বাজারে আবার চাহিদা বাড়বে। এতে করে ব্রয়লার মুরগির দাম পুনরায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরবরাহ যদি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
সাধারণ ভোক্তারা এই সময়টাকে ব্রয়লার মুরগি ক্রয়ের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন। কারণ একদিকে দাম কম, অন্যদিকে সরবরাহও পর্যাপ্ত। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন যে, দাম যে কোনো সময় পুনরায় বাড়তে পারে।
দ্রব্যমূল্য পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যদ্বাণী
মূল্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, পরবর্তী ৭-১০ দিনের মধ্যে বাজারে যদি কোনো অপ্রত্যাশিত সংকট না আসে তবে ব্রয়লার মুরগির দাম এই ধারা ধরে রাখতে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের ওঠানামাও গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
উপসংহার
সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ব্রয়লার মুরগির দাম ঈদের পর এক লাফে কমে এসেছে, যা নগরবাসীর জন্য একটি ভালো খবর। তবে এই দাম কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। তাই বাজার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
FAQs (প্রশ্নোত্তর)
ব্রয়লার মুরগির দাম বর্তমানে কত?
বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
দাম কমার পেছনের কারণ কী?
ঈদের পর শহরে মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার ফলে দাম কমেছে।
এই দাম কতদিন স্থায়ী হতে পারে?
যদি বাজারে কোনো বড় পরিবর্তন না আসে, তবে চলতি সপ্তাহজুড়ে দাম একই থাকতে পারে।
আরো কোন কোন পণ্যের দাম পরিবর্তন হয়েছে?
সোনালি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম কমেছে, কিন্তু সবজি ও মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।
বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা কেমন?
বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে, তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন আগামী সপ্তাহে তা আরও স্বাভাবিক হতে পারে।
এই দাম কি রেস্টুরেন্ট সেক্টরে প্রভাব ফেলছে?
হ্যাঁ, রেস্টুরেন্ট এবং হোটেল ব্যবসায় ব্রয়লারের দাম কমার ফলে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।