
কোনো দেশ যদি বড় কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজক হয়, তবে সাধারণত সেই টুর্নামেন্টের স্বার্থে টুর্নামেন্ট-সংশ্নিষ্ট প্রায় সব আর্থিক লেনদেনের কর মওকুফ করে দেয় দেশটির সরকার। কিন্তু তিন বছর আগে ভারতে আয়োজিত সেই টুর্নামেন্টে করমুক্তির সুবিধা পায়নি সংস্থাটি। কারণ ভারতের বিদ্যমান কর আইনে এমন কোনো নিয়ম নেই। ফলে, টি-২০ বিশ্বকাপের কর পুরোপুরিভাবে মওকুফ করেনি ভারত সরকার, সম্প্রচার সংস্থা স্টার ইন্ডিয়াকে সেবার ১০ শতাংশ কর দিতে হয়েছিল। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেই টুর্নামেন্টের পুরো কর মওকুফের প্রস্তাবনার অনুমোদন পায়নি বিসিসিআই। এ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্বটা গত কয়েক মাসে বেশ চরমে উঠেছে। করমুক্তি না দিলে ২০২১ টি২০ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
বিসিসিআইর ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, আইসিসি এবার ভারতের রাজস্ব থেকে দশ শতাংশ কেটে রাখতে চাইছে নিজেদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআইর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিসিসিআইর রাজস্ব থেকে প্রায় ৪০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেটে রাখতে পারে আইসিসি, যা ভারতীয় বোর্ডের রাজস্ব আয়ের দশ শতাংশ। বর্তমান কর আইন পরিবর্তন করার ক্ষমতা বিসিসিআইর নেই। তবে আমরা এ ব্যাপারে আইসিসিকে অবগত করেছি। আমরা তো আর দেশের আইন অমান্য করতে পারি না। আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরের এটা বেশ ভালোভাবেই বোঝা উচিত। কারণ, তিনি নিজেও বিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট ছিলেন একটা সময়।
বিসিসিআইর এই কর্মকর্তা অবশ্য স্বীকার করেছেন, ভারত সরকারের কর-সংক্রান্ত এই আইনের ফলে সামনে বড় কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে রাজস্ব কেটে নেওয়ার ব্যাপারটিকে মোটেই ভালোভাবে নেয়নি ভারতীয় বোর্ড। ২০১৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যাপারে দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি নির্ধারিত হয়েছিল যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী। এ কারণে কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস (সিওএ) ইতিমধ্যেই বিসিসিআই লিগ্যাল টিমকে যুক্তরাজ্যের এক আইনি সংস্থার কাছ থেকে এ ব্যাপারে পরামর্শ নিতে বলেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



