জুমবাংলা ডেস্ক : প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্সের পরই করেন দ্বিতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করে ভুয়া পরিচয়ে করেন তৃতীয় বিয়ে। এরপর চতুর্থ নারীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন আবু রায়হান মনির (২৭)। তৃতীয় স্ত্রীর করা প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারের পর আজ শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বগুড়ার শাজাহানপুর থানা পুলিশ।
আবু রায়হান মনির বগুড়া সদরের আকাশতারা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (বিট) বগুড়া থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার পাসের পর একটি কসমেটিকস কোম্পানির সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে প্রতারণার নানা তথ্য।
থানা সূত্রে জানা যায়, আবু রায়হান মনির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শাজাহানপুর উপজেলার টেকুরগাড়ী গ্রামের অনার্স চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর নাম-পরিচয় গোপন করে ভুয়া পরিচয়ে ২০২০ সালের জুনে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন। ওই ছাত্রী তার তৃতীয় স্ত্রী।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে কৌশলে শাশুড়ির কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে উধাও হন মনির। এরপর মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে থানায় নারী ও শিশু ডেস্কে সহায়তা চান তার স্ত্রী। নানা কৌশল অবলম্বন করে অবশেষে হোয়াটসঅ্যাপে নারী সেজে প্রেমের অভিনয় করে শুক্রবার মনিরকে বগুড়া সাতমাথা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের নারী ও শিশু ডেস্কের কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জেবুন্নেছা জানান, আবু রায়হান মনিরকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে তার প্রতারণার অজানা তথ্য। ২০১২ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নিশি আকতার নামে এক নারীকে প্রথম বিয়ে করে। শিশুকন্যার বয়স যখন চার বছর তখন স্ত্রীকে চরিত্রহীন অপবাদ দিয়ে ডিভোর্স দেন মনির। এরপর ২০১৭ সালে বগুড়া সদরের পীরগাছা এলাকার সানজিদা নামে আরেক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এই সংসারও বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তাকে ডিভোর্স না দিয়ে শুধু সম্পর্ক ছিন্ন করে তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসে মনির। কিন্তু তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও প্রতারণা করেন মনির। এরপর চতুর্থ নারীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মনিরকে ধরতে চতুর্থ নারী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে এক নারীকে প্রেমিকা সাজানো হয়। পরে দেখা করার জন্য ডেকে এনে মনিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আবু রায়হান মনির একজন প্রতারক। মামলার পর তাকে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।