গত ডিসেম্বরে আইপিএলের মিনি নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখে দলে নেয় বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

এখন প্রশ্ন উঠেছে মোস্তাফিজ তো খেলার জন্য ফিট, তাকে নিলামে নেওয়ার পরও ছেড়ে দিল দল। তারকা এই পেসার কলাকাতার সঙ্গে যুক্ত না হলে বিদেশি অন্য লিগে নিশ্চয়ই সুযোগ পেতেন। সেই হিসেবে তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজির।
আইপিএলের নিয়ম
১. কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি যে টাকায় কোনও ক্রিকেটারকে কেনে, সেই টাকা দিতেই হবে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে মোট টাকার ১৫ শতাংশ সেই ক্রিকেটারকে দিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ মোস্তাফিজুরের ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা (৯.২০ কোটির ১৫ শতাংশ) আইপিএল শুরুর আগেই পাওয়ার কথা ছিল।
২. দলে নেওয়ার পর যদি কোনও ক্রিকেটারকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেঁটে ফেলে তা হলেও পুরো টাকা পাবেন সেই ক্রিকেটার।
৩. কোনও ক্রিকেটার যদি চোট পেয়ে ছিটকে যান, তা হলেও তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির থেকে পুরো টাকা পাবেন।
কিন্তু এই নিয়মের কোনওটিই মোস্তাফিজুরের ক্ষেত্রে খাটছে না। কারণ, তাকে কেকেআর নিজে থেকে বাদ দেয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে তাকে বাদ দিয়েছে কেকেআর। সেটিও চোট বা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে নয়। বিসিসিআই জানিয়েছে, চারপাশের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মোস্তাফিজকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া সম্ভব নয়।
মোস্তাফিজ ৯.২০ কোটি টাকা পাবেন?
মোস্তাফিজের পক্ষে এই টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে আইপিএলের এক কর্তা জানিয়েছেন, আইপিএলের সব ক্রিকেটারের বেতন বিমার আওতাভুক্ত থাকে। বিদেশিদের কেউ শিবিরে যোগ দেওয়ার পর বা প্রতিযোগিতা চলাকালীন চোট পেলে ফ্র্যাঞ্চাইজি টাকা দেয়। বিমা থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়া হয়। ভারতীয় বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বিসিসিআই নিজেরাই এই টাকা দেয়।
বর্তমান বিমা কাঠামোতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ওই সূত্র জানিয়েছেন, “মুস্তাফিজুরের পরিস্থিতিটি বিমা দাবির আওতায় পড়ে না। তাই কেকেআর তাঁকে এক পয়সা দিতে বাধ্য নয়।’’ ফলে বাংলাদেশি পেসার যদি ক্ষতিপূরণ চান, তা হলে তিনি তা পাবেন না।
মোস্তাফিজ আইনি পথে যেতে পারেন?
বিষয়টি মোস্তাফিজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হলেও আইনি রাস্তায় যাওয়া ছাড়া তার আর কোনও উপায় নেই। কিন্তু আইপিএল যেহেতু ভারতের প্রতিযোগিতা, এবং ভারতের আইনের এক্তিয়ারে পড়ে, তাই কোনও বিদেশি ক্রিকেটারকে এ দেশে মামলা করতে হলে বিস্তর আইনি ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। খেলাধুলোর আন্তর্জাতিক আদালত ‘কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস’-এর দরজাও খোলা থাকছে মোস্তাফিজের জন্য।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


