জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের জন্য আরও ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে চীন যেন কম দামে বিপুল পরিমাণ রাশিয়ান তেল একচেটিয়াভাবে মজুদ করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করা যাবে।
গত সপ্তাহে আগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার (১৮ মে) নতুন করে ৩০ দিনের জন্য এই সাধারণ লাইসেন্স বা অস্থায়ী ছাড়পত্র জারি করা হয়। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলো যাতে তেল পেতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থার ফলে বাজারে ভারসাম্য আসবে এবং বৈশ্বিক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো দেশ যেন এককভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পরপরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা ছাড়ের ওপর নির্ভর করে না। বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, আগেও ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি করেছে, এখনো করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে— এতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলে ভারতের ভূগোল বদলে যাবে’
নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকার সুযোগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তথ্যসূত্র: ফার্স্ট পোস্ট
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


