আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের লোকসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে রাজনৈতিক আক্রমণের মান ততই নামছে। রাজ্যে এসে বাংলার শাসক শিবিরকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন এ রাজ্যে তৃণমূল তোলাবাজি ট্যাক্স না দিলে কোনও কাজ হয় না। জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন আমি প্রধানমন্ত্রীকে গণতন্ত্রের কড়া থাপ্পড় দিতে চাই।
পুরুলিয়ার জনসভা থেকে মমতা বললেন, আমার কাছে টাকা কোনও বিষয় নয়। তাই নরেন্দ্র মোদী যখন বাংলা এসে আমার দলের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ করলেন তখন আমি তাঁকে গণতন্ত্রের কড়া থাপ্পড় দিতে চেয়েছি। আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী একজন মিথ্যাবাদী। দেশের শিশুরা তাঁর থেকে খারাপ জিনিস শিখছে।
জয় শ্রী রাম ধ্বনি নিয়ে এর আগেই রাজ্য জুড়ে বিতর্ক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সকলেই বাংলায় এসে এই প্রশ্নে মমতার কড়া সমালোচনা করেছেন। পুরুলিয়ার জনসভা থেকে সেসবের উত্তর দিলেন মমতা। তিনি বললেন, আমি ওদের পাশে দাঁড়িয়ে ওদের স্লোগান কখনওই উচ্চারণ করব না। তার চেয়ে আমি বলব জয় হিন্দ।
বিতর্কে সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। গত শনিবার আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অপরূপা পোদ্দারের সমর্থনে চন্দ্রকোনায় সভা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সভাস্থলে পৌছানোর সময় রাস্তায় তাঁর গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন জয় শ্রী রাম স্লোগান দিতে থাকেন। গাড়ি থেকে নেমে পড়েন মমতা। যাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা ভয় পেয়ে দৌড়তে থাকেন। মমতা তাঁদের ফিরে আসতে বলেন।
পরে এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী বলেন বাংলার অবস্থা এখন এমন যে জয় শ্রীরাম বললেও গ্রেফতার করা হচ্ছে। একইভাবে মঙ্গলবার আক্রমণ শুনিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তিনিও নির্বাচনী জনসভা থেকে বলেছেন, ‘বাংলা পাকিস্তান নয়। বাংলায় হাজার বার জয় শ্রী রাম বলব। ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখান।’ একদিন আগে সোমবার অন্য একটি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমালোচনা করেন মমতা।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে নিয়ে করা তাঁর মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মমতা বলেন, দেশের জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের সম্মান দিতে হবে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে আপনি বলছেন দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা। আর আমার দলকে বলছেন তোলাবাজ। আমার দল যদি তোলাবাজ হয় তাহলে আপনি কী? আপনার মাথা থেকে পা সব সব জায়গায় মানুষের রক্ত লেগে রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।