যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ ও নৌবহর পাঠানোর হুমকির মুখে ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনার জন্য তেহরান প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুরস্ক সফরকালে আঙ্কারায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইরানের এই অবস্থানের কথা জানান।
আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে ইরানের কোনো নীতিগত আপত্তি নেই, তবে কোনো ধরনের হুমকির মুখে নতি স্বীকার করে তারা আলোচনায় বসবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন এই মন্তব্যকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আশা করি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে না: ট্রাম্প
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি আলোচনার প্রস্তুতির কথা জানালেও একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কখনোই কোনো ধরনের আলোচনা বা দর কষাকষি করা হবে না। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরানি জনগণের একান্ত নিজস্ব বিষয় এবং এতে অন্য কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁর দেশ যেমন আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত, তেমনি সম্ভাব্য যে কোনো যুদ্ধের মোকাবিলা করার জন্যও সমানভাবে তৈরি। ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দেশের সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চাপের মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে। একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় মোতায়েন করা নৌবহরের চেয়েও শক্তিশালী একটি নৌবাহিনী বর্তমানে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ট্রাম্পের মতে, সামরিক শক্তির এই প্রদর্শন ইরানকে চুক্তিতে ফিরতে বাধ্য করবে এবং তিনি দাবি করেন যে ইরান প্রকৃতপক্ষে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেছেন এবং ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তেহরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।
অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের সরকারি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন এক বহুমুখী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরাঘচির এই ‘ন্যায্য আলোচনার’ প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে নতুন এক আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


