উন্নত জীবনের আশায় কোটি টাকা খরচ করে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে দেশে ফিরলেন আরও ৩৬ জন বাংলাদেশি। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ২৯৩ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হলো।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, ফেরত আসা এই ব্যক্তিদের অধিকাংশই প্রথমে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে মেক্সিকো সীমান্ত হয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এই যাত্রায় একেকজন ৪০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন, যা জোগাড় করতে অনেক পরিবার জমি ও গয়না বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে।
ফেরত আসাদের মধ্যে ২১ জনই নোয়াখালীর বাসিন্দা। নোয়াখালীর জাহিদুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আশায় তিনি ৮০ লাখ টাকা খুইয়েছেন। গাজীপুরের সুলতানা আক্তার ব্রাজিল-মেক্সিকো রুট ব্যবহার করতে দালালদের দিয়েছিলেন ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ২০২৫ সালে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ১,৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন, যার বড় অংশই নোয়াখালীর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সরকার যখন ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেয়, তখন তারা কি সত্যিই সেখানে কাজ করতে যাচ্ছেন নাকি যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন—তা খতিয়ে দেখা উচিত।” এই অবৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জড়িত এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান কয়েকগুণ জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) এখন দ্রুততম সময়ে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। এমনকি অনেককে হাতে-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় ফেরত পাঠানোর মতো অমানবিক অভিযোগও পাওয়া গেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


