আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো মাঠে আর নিয়মিত দেখা যাবে না Ravichandran Ashwin-কে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি, এবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে অংশ নেওয়ার খবর ঘিরে।

মেজর লিগ ক্রিকেটের চতুর্থ আসরে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস দলে যোগ দিচ্ছেন এই অভিজ্ঞ অফ-স্পিনার। সেখানে তার সতীর্থ হিসেবে থাকছেন পাকিস্তানের গতিময় পেসার Haris Rauf। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে এই জুটি স্বাভাবিকভাবেই আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে সমর্থকদের মধ্যে।
অশ্বিনের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টা ছিল বেশ নাটকীয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০২৫ সালের আইপিএল শেষে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটকেও বিদায় জানান তিনি। সেই হিসেবে এটি হতে যাচ্ছে অবসরের পর তার প্রথম কোনো বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে অংশগ্রহণ।
তবে মাঠে ফেরার পথটা একেবারে মসৃণ ছিল না। শেষদিকে হাঁটুর চোট তাকে বেশ ভুগিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশ লিগে সিডনি থান্ডার্সের হয়ে খেলার সুযোগও হাতছাড়া হয় এই চোটের কারণে। সেই সময়টা পেরিয়ে আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরা—এটা তার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভক্তদের জন্যও স্বস্তির।
এদিকে Major League Cricket ধীরে ধীরে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের জায়গা শক্ত করছে। বিশেষ করে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা এই লিগকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এমআই নিউইয়র্ক, টেক্সাস সুপার কিংস ও লস অ্যাঞ্জেলেস নাইটরাইডার্স—এই তিনটি দলই আইপিএলের বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত, যা লিগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বড় তারকারা এখন এই লিগে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন। অশ্বিনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ সেই ধারাকেই আরও জোরালো করে। তার সঙ্গে হারিস রউফের মতো গতিময় বোলার থাকায় সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বোলিং আক্রমণ এবার বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।
২০২৬ মৌসুম শুরু হবে আগামী ১৮ জুন। টেক্সাস, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওকল্যান্ড—এই তিন শহরে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল ম্যাচটি ১৮ জুলাই ওকল্যান্ড কলিসিয়ামে আয়োজন করা হবে, যেখানে নতুন চ্যাম্পিয়নের অপেক্ষায় থাকবে লিগটি।
সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস এখনো পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি। ২০২৪ সালে রানার্সআপ হওয়াই তাদের সেরা সাফল্য। ফলে এবার নতুন সংযোজন নিয়ে তারা কতটা এগোতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুনঃ
সব মিলিয়ে, অশ্বিনের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি দলের জন্য নয়, পুরো লিগের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠছে। অভিজ্ঞতা, কৌশল আর নতুন মঞ্চ—এই সমন্বয়ে তার দ্বিতীয় অধ্যায় কতটা সফল হয়, সেটাই এখন সময় বলে দেবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


