Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক : সিরিজের তৃতীয় আনঅফিসিয়াল ওয়ানডেতে আফগানিস্তান ‘এ’ দলকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। বোলারদের বোলিং তোপের পর ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও আফিফ হোসেনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ১১৭ বল হাতে রেখেই জয়ের দেখা পায় স্বাগতিকরা। টাইগারদের এ জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের ব্যবধান কমে আসলো ২-১ এ।

আফগানিস্তান ‘এ’ দলের দেওয়া ১২৩ রানের ছোট্ট লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই নাইম শেখের উইকেট হারায় দলটি। ২ রান করে নাইম বোল্ড হলে দলীয় ১৪ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে স্বাগতিকদের।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন কায়েস। তবে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি এ গতি। ইনিংসের অষ্টম ওভারে জিয়া আলির বলে লেগ-বিফোরের শিকার হন তিনি। এতে দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। আউটের আগে তিনি করেন ৪ চারের সাহায্যে ২৩ রান।

তার বিদায়ের কিছু মুহূর্ত পর করিম জানাতের শিকার হন জাকির আলি (১২)। এর ফলে দলীয় ৪৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে এ চাপকে অনুভব করতে দেননি ফজলে মাহমুদ ও আফিফ হোসেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তাদের দৃঢ়তায় চাপ সামলানোর পাশাপাশি ম্যাচও নিজেদের করে নেয় টাইগাররা।

১১৭ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ ‘এ’ দল পায় ৭ উইকেটের জয়। হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত রাব্বি অপরাজিত থাকেন ৫৭ রানে। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়া অপর ব্যাটসম্যান আফিফ করেন ২১ রান।

সফরকারী বোলারদের মধ্যে একটি করে উইকেট নেন ফরিদ, করিম ও জিয়া।

এর আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ভেজা আউটফিল্ডের জন্য প্রায় দুই ঘন্টা পর শুরু হয় ম্যাচটি। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক কায়েস।

বল করতে নেমে ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই স্বাগতিকদের সাফল্যর মুখ দেখান ডানহাতি পেসার আবু জায়েদ রাহী। রহমানউল্লাহ গুরবাজকে লেগ-বিফোর করে সফরকারীদের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন তিনি। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই উইকেট হারিয়ে বসে দলটি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইব্রাহিম জাদরান ও উসমান গনি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্ঠা চালালেও ব্যর্থ হন তারা। এ জুটিও ভাঙ্গেন রাহী। উসমানকে উইকেটের পেছনে জাকের আলীর হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর উইকেট শিকারের উৎসবে যোগ দেন স্পিনার মেহেদি হাসান।

তার ঘূর্ণি জাদুতে একে একে সাজঘরের পথ ধরেন শহিদুল্লাহ (৮), নাসির (২), ইব্রাহিম (২৫)। মেহেদির টানা তিন উইকেট শিকারে ৫০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। এর ফলে কোনঠাসা হয়ে পড়ে সফরকারীরা।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ডারউইশ রাসুল ও করিম জানাত বিপর্যয় সামাল দিয়ে চালিয়ে যান লড়াই। এ যাত্রায় সফরকারীদের পথে বাধ সাজেন আবু হায়দার। ১৬ রান করা ডারউইশকে বোল্ড করে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। এরে ভাঙ্গে ৩০ রানের জুটি। সংগীকে হারানোর কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফিরেন করিমও। নাজমুল ইসলামের শিকারে পরিণত হলে ২৫ ওভারের মধ্যে ৮৬ রানে ৭ উইকেটের পতন ঘটে সফরকারীদের।

আগের ম্যাচে বাংলাদেশের জয় কেড়ে নেওয়া শরফুদ্দিন আশরাফ অষ্টম উইকেট জুটিতে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ফরিদ আহমেদের সাথে নিয়ে দ্রুতগতিতে ২৬ রান যোগ করেন। তিনি যখন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠছিলেন তখন আক্রমণে এসে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন রাহী। ২ ছক্কায় ১৭ রান করা আশরাফকে আফিফের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরানোর পর রাহী আউট করেন ফরিদকেও। আর এতেই ৩২.৪ ওভারে ১২২ রানে থামে সফরকারীদের ইনিংস।

স্বাগতিক দলের বোলারদের মধ্যে ৫.৪ ওভারে ২৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন রাহী। বাকি বোলারদের মধ্যে ৭ ওভারে ২৪ রানের বিনিময়ে মেহেদি ৩টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া নাজমুল অপু ও আবু হায়দারের ভাগ্যে জুটে একটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
আফগানিস্তান ‘এ’ দল: ৩২.৪ ওভারে ১২২/১০
ইব্রাহিম ২৫, আশরাফ ১৭; রাহী ৫.৪-১-২৮-৪, মেহেদি ৭-২-২৪-৩, অপু ৯-১-২০-১, রনি ৬-০-২৬-১।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ৩০.৩ ওভারে ১২৩/৩
কায়েস ২৩, নাইম ২, জাকির ১২, রাব্বি ৫৭*, আফিফ ২১*।

ফলাফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে বিজয়ী।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.