রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী ও দারুসসালাম থানাধীন এলাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ৫ ও ৯ বছরের দুই শিশু। পল্লবীর শিশু রামিসার মর্মান্তিক ঘটনার দিন ছয়েক আগে রামিসাদের বাসার ৩ গলি পিছনের একটি বাসা থেকে গায়েব হয়ে যায় ৫ বছরের ইব্রাহিম। এর ঠিক ৪ দিন আগে খেলতে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি ৯ বছরের আলী হোসেন।

প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাসার সামনেই খেলছিল ইব্রাহিম। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মে মাসের ১৩ তারিখ সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বাসার গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকে ইব্রাহিম। তবে সে একা ছিল না; তার পেছন পেছন এক ব্যক্তিকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইব্রাহিমের একটি চিৎকার শোনা যায়। এর মাত্র কয়েক মিনিট পর ভেতরে প্রবেশ করা সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু ইব্রাহিমের আর কোনো সন্ধান মেলেনি!
এটিই এখন পর্যন্ত পাওয়া তার সর্বশেষ ভিডিও। এরপর যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে শিশুটি! শুধু রয়ে গেছে তার ছোট্ট দুপায়ের একজোড়া স্যান্ডেল, যা পরে বাসা থেকে খেলতে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরেছিলো সে।
ইব্রাহিমের আরও একটি ভাই এবং বোন আছে। এর মধ্যে ইব্রাহিমই সবার ছোট। বাবা মা আদর করে তাকে ডাকতো ‘রাজা’ বলে।
হঠাৎ এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, কোথায় গেলো শিশুটি? যে ঘর একসময় বাবা মায়ের আদরের রাজার মায়াভরা দুষ্টুমিতে মাতোয়ারা থাকতো সে রাজাহীন রাজ্য এখন শুধুই তার স্মৃতি আর বাবা-মা-স্বজনদের চোখের পানিতে ভাসছে।
ইব্রাহিমের বাবা-মা জানান, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। যে সিসিটিভি ফুটেজে ইব্রাহিমকে বাসায় ঢুকতে দেখা গেছে তা পাশের একটি ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজ, যা তারা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে হাতে পেয়েছিলেন ঘটনার ৪ দিন পরে। কিন্তু শিশু রামিসার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে অনেকটাই চাপা পড়ে যায় ইব্রাহিম নিখোঁজের ঘটনা।
প্রথমে জিডি করলেও ঘটনার ২০ দিনের মাথায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে ইব্রাহিমের পরিবার। পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা এবং ডিবি পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে শিশু ইব্রাহীম নিখোঁজের ৪ দিন আগে নিখোঁজ হয় মিরপুর দারুস সালাম থানাধীন বাগবাড়ী চারআনিপাড়ার শহীদুল হকের শিশু সন্তান মো. আলী হোসেন। তার হতভাগ্য বাবা জানান, মে মাসের ৯ তারিখ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাসা থেকে খেলতে বের হয়েছিলো আলী। তার এক আত্মীয়ের ছেলের সাথে মিরপুর বেড়ীবাঁধের পাশে খেলার পর সন্ধ্যায় দুজন এলাকায় ফিরলেও বাসায় ফিরেনি আলী। এলাকার পরিচিত এক মহিলা রাত ১০টার দিকে সর্বশেষ আলীকে দেখেছিলো একটি মাদ্রাসার পাশের সড়কের মুখে। ওই মাদ্রাসারই দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তো আলী।
পরদিন দারুস সালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নিখোঁজের ৩১তম দিন পর্যন্ত ঢাকার প্রায় সব যায়গাতেই কলিজার টুকরোকে পাগলের মতো খোঁজার কথা জানান আলীর অসহায় বাবা শহিদুল ইসলাম।
দিনকয়েক আগে অপরিচিত এক নাম্বার থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কল করে অস্বাভাবিক কথা বলেছেন বলেও জানান শহিদুল ইসলাম।
দারুস সালাম থানার ওসি (অপারেশন) ইমাম মেহেদী সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, সব বিষয় মাথায় রেখেই রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
নিখোঁজ দুই শিশুর পরিবারই জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে অপহরণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় অপহৃত উদ্ধার এবং অত্যন্ত অল্প সময়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার তাদেরকে এখনো এ আশায় বাঁচিয়ে রেখেছে যে, তাদের হারানো মানিকরা অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরবে তাদের শূন্য বুকে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



