জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের বক্তব্য আমি শুনিনি, এ নিয়ে কিছু বলার আগ্রহ আমার নেই। তবে রাষ্ট্রপতির কিছু কুকীর্তি এ হাউসের সামনে তুলে ধরতে চাই।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা বলেন নাহিদ। তখন সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য এই দুর্নীতিবাজ, মিথ্যুক, অপদার্থ এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি এখনও রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখেছে, এটি বিএনপির দেওলিয়াত্ব। আমরা দাবি জানাই, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করা হোক।
রাষ্ট্রপতির দুদকের কমিশনার হওয়া নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে; খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিন চিট দেওয়া (দায় মুক্তি), ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীনের আমলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলা থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মুক্তি দেওয়া।
‘আমাদের হাতে দুটি অপশন ছিল। জাতীয় সরকার করতে চেয়েছি, কিন্তু বিএনপি সেটি মানেনি। আরেকটি অপশন ছিল, সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া। সেটা হলে বিএনপি এখনও ক্ষমতায় আসতে পারতো না।’
নাহিদ আরও বলেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে বাধা দিয়েছে বিএনপি। এখন তো সাংবিধানিক সংকট নেই। তাহলে কেন এখন তাকে অপসারণ করা হচ্ছে না।
‘৭২-এর সংবিধানকে একাত্তরের সঙ্গে মেলানো হচ্ছে’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে অনেকে একাত্তরের সঙ্গে মিলিয়েছেন। কিছু কিছু সদস্য এটি করেছে। এটা তো আওয়ামী লীগ মেলাতো। বাহাত্তরের সংবিধানকে একাত্তরের ফসল মনে করতো। বাহাত্তরের মূলনীতিকে একাত্তরের মূলনীতি হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। আমরা সবসময় এর বিরোধিতা করেছি। বিএনপির বহু নেতা এর বিরোধিতা করেছে।
তার মতে, বাহাত্তরের সংবিধান রচনা করেছে ৭০-এ যারা নির্বাচিত হয়েছিল, যাদের পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের কথা ছিল। এ সংবিধান ইনহেরেনটলি আনডেমোক্রেটিক সংবিধান। একজন ব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা দেওয়ার সংবিধান। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এ সংবিধান করা হয়েছিল, এতে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও কায়দা করে তার হাতে দেওয়া হয়েছে।
এই সংবিধানকে মুজিববাদী আদর্শের দাবি করে তিনি বলেন, একাত্তরের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের পরিবর্তে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাকে যুক্ত করা হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার হাতে সুযোগ ছিল, গণপরিষদ নির্বাচন করে এ দেশের মানুষের মাধ্যমে সংবিধান রচনা করার, তিনি সেটা করেননি।
‘নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে জুলাই সনদকে দলীয় ইশতেহার করা হয়েছে’
নাহিদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে আমরা বলেছিলাম, আমরা নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনর্লিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনে মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। পাঁচ আগস্টের পর থেকে আমাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। তখন আমরা একটা মধ্যমপন্থায় আসি। সেখান থেকে ঐকমত্য কমিশন, সংবিধান সংস্কার, এসবের আলোচনা হয়। গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ করার কথা। এখন বিএনপি যদি সে জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরকেও পূর্বের জায়গায় ফেরত যেতে হবে। আমরা নতুন সংবিধান অথবা সংবিধান পুনর্লিখন চাই।’
এনসিপি নেতা আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর করা হয়েছিল আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি সেদিন স্বাক্ষর করিনি। পরবর্তীতেও আমরা স্বাক্ষর করেছি বলা যায় না, সেখানে আমরা আমাদের মতামত দিয়ে এসেছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অনেক কষ্টের ফসল জুলাই জাতীয় সনদকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। সাক্ষরের দিন একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পাশে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই সনদকেও অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করা হয়েছে।’
‘মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন, এটা আনকমপ্রোমাইজিং’
নাহিদ ইসলাম বলেন, মাননীয় স্পিকার, মুক্তিযুদ্ধকে আমরা সম্মান করি। আমরা মনে করি এই প্রজন্মের যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে তাদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। ফলে, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। আমরা বারবার বলেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধেরই আরেকটি ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলেছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। তাহলে কোথায় পার্থক্য?
আরও পড়ুনঃ
তিনি বলেন, আমরা কেউ বলিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধ থেকে বড়। জুলাই ৯০ থেকে বড় কিংবা ছোট। বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই একটি বিশেষ ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ আরেকটি বিশেষ ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এ ব্যাপারে আমরা আনকমপ্রোমাইজিং।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


