
জুমবাংলা ডেস্ক : প্রতারণা ও অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানায় গ্রাহকের করা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ধামাকা শপিং ডটকম’- এর সিইও সিরাজুল ইসলাম রানাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব বলছে, প্রতিষ্ঠানটির কোন প্রকার অনুমোদন ও লাইসেন্স নেই; ব্যবসায়িক একাউন্টও নেই। প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনায় ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে ব্যবসায়িক লেনদেন করেছে ধামাকা। বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হলেও বর্তমানে তাদের একাউন্টে জমা রয়েছে যৎসামান্য টাকা।
শুধু তাই নয়, বর্তমানে ধামাকার কাছে সেলাররা পাবে প্রায় ১৮০-১৯০ কোটি টাকা, কাস্টমার পাবে ১৫০ কোটি টাকা। এছাড়া কাস্টমার রিফান্ড চেক বকেয়া আছে ৩৫-৪০ কোটি টাকা।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
বুধবার ভোররাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-২ এর অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. সিরাজুল ইসলাম রানা (৩৪), মো. ইমতিয়াজ হাসান সবুজ (৩১) ও মো. ইব্রাহিম স্বপনকে (৩৩) চাঁদপুর, ঢাকা, চট্টগ্রামের বিভিন্নভাবে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পশ্চিম থানায় এক ভুক্তভোগী প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ধামাকা শপিং-এর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইওসহ ১১জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার বিভিন্ন বিষয়াদি ও কৌশল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার মো. সিরাজুল ইসলাম রানা ‘ধামাকা শপিং ডটকম’- এর সিইও, ইমতিয়াজ হাসান সবুজ ক্যাটাগরি হেড, মোবাইল ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইল এবং ইব্রাহীম স্বপন, ক্যাটাগরি হেড ইলেক্ট্রনিক্স হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন।
র্যাব জানায়, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ‘ধামাকা ডিজিটাল’ ২০২০ হতে ‘ধামাকা শপিং ডট কম’ নামে কার্যক্রম শুরু করে। গ্রেপ্তাররা ২০২০ থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর হতে প্রতিষ্ঠানটি নেতিবাচক এগ্রেসিভ স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠে নামে।
র্যাবের এ গণমাধ্যম শাখার প্রধান বলেন, ‘ধামাকা শপিং ডট কম’- এর কোন প্রকার অনুমোদন ও লাইসেন্স নেই; নেই কোন ব্যবসায়িক একাউন্টও। ব্যবসা পরিচালনায় ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে ব্যবসায়িক লেনদেন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে মাত্র লাখ খানেক টাকা জমা রয়েছে। বর্তমানে সেলার বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৮০-১৯০ কোটি টাকা, কাস্টমার বকেয়া ১৫০ কোটি টাকা এবং কাস্টমার রিফান্ড চেক বকেয়া ৩৫-৪০ কোটি টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে গত কয়েক মাস যাবত প্রতিষ্ঠানের অফিস এবং ডিপো ভাড়া বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি জুন ২০২১ থেকে কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। চলতি বছরের গত এপ্রিল হতে ধামাকা অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার কারণে জুলাই হতে সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ধামাকার ব্যবসায়িক অবকাঠামো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মহাখালীতে তাদের প্রধান কার্যালয় এবং তেজগাঁও বটতলা মোড়ে একটি ডেলিভারি হাব রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬০০টি ব্যবসায়িক চেইন রয়েছে। এর মধ্যে নামিদামি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
র্যাবের এই কর্মকর্তাণ জানান, ধামাকা ছাড়াও তাদের আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমন- ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড, মাইক্রো-ট্রেড ফুড এবং বেভারেজ লিমিটেড এবং মাইক্রো-ট্রেড আইসিক্স লিমিটেড ইত্যাদি। মূলত প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য তৈরিকারক ও গ্রাহক চেইন বা নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এছাড়া ‘হোল্ড মানি প্রসেস প্লান’ অর্থ্যাৎ গ্রাহক ও সরবরাহকারীর টাকা আটকিয়ে রেখে অর্থ সরিয়ে ফেলা ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিষ্ঠানটি বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর নানাবিধ অফার দিয়ে সাধারণ জনগণকে প্রলুব্ধ করতো। এভাবে যাতে দ্রুততম সময়ে ক্রেতা বৃদ্ধি সম্ভবপর হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা র্যাবকে জানায়, ধামাকার গ্রাহক সংখ্যা ৩ লক্ষাধিক। মোবাইল, টিভি, ফ্রিজ, মোটরবাইক, গৃহস্থলীপণ্য ও ফার্নিচারসহ বিভিন্ন অফারে বিক্রি করা হতো। ধামাকার বিভিন্ন লোভনীয় অফারগুলো হলো- সিগনেচার কার্ড ২০ থেকে ৩০ শতাংশ, ধামাকা নাইট এ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, রেগুলার এ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড়। সিগনেচার কার্ড অফারটি গত মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়। মাত্র ২০ শতাংশ পণ্য সরবরাহ করে অর্থ সরিয়ে গ্রাহকদের চেক প্রদান করা হয়। অতঃপর ধীরে ধীরে সকল অর্থ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
র্যাবের এ গণমাধ্যম শাখার প্রধান বলেন, ধামাকা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে মূলত তারা ইনভেনটরি জিরো মডেল এবং হোল্ড মানি প্রসেস প্লান ফলো করত। কয়েকটি দেশি-বিদেশী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় অফারের আলোকে ‘ধামাকা শপিং ডট কম’ ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ইনভেস্টমেন্ট ছিল না।
গ্রেপ্তাররা ধামাকার ব্যবসায়িক কারসাজি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত থেকে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকেছেন। এছাড়া তারা বিভিন্ন অপকৌশল প্রনয়ণে প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ, সুপারিশসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করছিলেন বলেও জানায় র্যাব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


