
স্পোর্টস ডেস্ক : খুবই প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখেন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকটার লিটন দাস। কিন্তু দলে নিয়মিত সুযোগ পেয়ে প্রায় অর্ধযুগ পার করে দেওয়ার পরও লিটন নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এই কারণ হিসেবে লিটনের মানসিক দুর্বলতাকে দায়ী করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম উইকেট রক্ষক ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট।
বাংলাদেশ দলের সাবেক সফলতম উইকেট রক্ষক পাইলট মনে করেন, “কিছু খেলোয়াড় আছে যারা চাপ অনেক বেশি নিয়ে ফেলে এবং নিজেকে ঘোলাটে করে ফেলে। নিঃসন্দেহে দক্ষতার দিক থেকে লিটন অসাধারণ খেলোয়াড়, মেধাবী খেলোয়াড়। সে যেদিন রান করবে, সেদিন অসাধারণ। কিন্তু মাথার দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছে।”
খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা নিজেদের ওপর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ফেলেন এবং সেই চাপ থেকে আর বের হতে পারেন না। আর এই চাপের ভারেই নুইয়ে পড়েন তারা। এমনটাই ঘটেছে লিটনের ক্ষেত্রেও। তবে লিটনের দক্ষতা ও মেধার কোনো ঘাটতি দেখেন না পাইলট।
বাংলাদেশের এই সাবেক অধিনায়কের মতে, দুর্বল মানসিকতার খেলোয়াড়রা বড় টুর্নামেন্টে সফল হতে পারেন না। বড় টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার জন্য সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মানসিক সক্ষমতা খুবই জরুরী। এখানেই লিটনের ঘাটতি দেখেন পাইলট।
লিটনের মানসিক দুর্বলতা সম্পর্কে পাইলট বলেন, “আমি অনেক দিন যাবত তাকে দেখছি, মনে হয় যেন খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়ে। তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়া মানুষরা আসলে কঠিন কোনো পরিস্থিতির জন্য কষ্টকর। কারণ কঠিন পরিস্থিতির জন্য আপনি যখন প্রস্তুত হবেন, তখন কিন্তু ভেঙে পড়লে চলবে না। সেখানে আপনাকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলতে হবে।”
পাইলট আরও বলেন, “আপনার প্রতিপক্ষরা সবাই চ্যালেঞ্জিং। এমন না যে আপনি ছোট ছোট দলের বিপক্ষে খেলবেন এবং ভেঙে পড়ার পরও পার পেয়ে যাবেন। এখানে চাপ নিয়েই টিকে থাকতে হয়। এমন না যে আপনাকে সহজ বল করবে বা সহজ দিবে, এটা দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগের খেলা না। মাথা ঠিক রেখেই আপনাকে আন্তর্জাতিকে খেলতে হবে।”
মাঠ ও মাঠের বাইরের পরিবেশ, প্রস্তুতি, আলোচনা-সমালোচনা সবকিছুকে বড় ক্রিকেটাররা ভিন্ন চোখে দেখেন বলেও জানান পাইলট। এসময় ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির উদাহরণ টানেন তিনি।
পাইলটের ভাষ্যমতে, “যেকোনো খেলোয়াড়ই ভুল করতে পারে, মিস করতে পারে কিন্তু তাদের মুখ দেখলেই বোঝা যায়, কারা মাঠে উপভোগ করছে এবং কারা করছে না। ভারত যখন পাকিস্তানের কাছে হারছিল, বিরাট কোহলি জানপ্রাণ দিয়ে জেতার চেষ্টা করেছে এবং ম্যাচ শেষে সে আবার তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে। ভালো খেলোয়াড়দের এই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


