
শনিবার (৩১ আগস্ট) সকালে সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগ জামে মসজিদের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এইসব কথা বলেন।
গিয়াসউদ্দিন বলেন, গত ১৫ বছর এলাকাই থাকতে পারি নাই। স্বৈরাচার সরকারের আমলে আমার নামে, আমার পরিবারের নামে এবং আমার সহকর্মীদের নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা তারা দিয়েছে। ওই সরকার থাকতে পারলে কয়েকটি মামলায় আমাদের ফাঁসির রায় হতো।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ আমাকে দুই মুক্তিযুদ্ধেই অংশ নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। আমি জানি, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার অধিকাংশ মানুষ ভালো। কিছু কুলাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছিলো, যারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতো। এই এলাকার অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করার জন্য তারা পাগল হয়ে গিয়েছিলো। নারায়ণগঞ্জের সর্বশ্রেষ্ট গডফাদার শামীম ওসমানের ক্যাডার বাহিনী হয়ে এই এলাকায় ত্রাসের রাজত্য তৈরি করেছিলো। এতে করে আমার এলাকার মান ইজ্জত সম্মান নষ্ট হয়েছে। যারা এগুলো করেছে অব্যশ্যই তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। তাদের বিচারের জন্য আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই, সেই দিকে আপনাদের সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ওই সন্ত্রাসীরা যাতে আর এলাকায় আসতে না পারে। সিদ্ধিরগঞ্জের সবাই শান্তি প্রিয় মানুষ। দুই-একটা কুলাঙ্গারের জন্য আমরা এই এলাকার সুনাম নষ্ট করতে পারি না। কুলাঙ্গাররা অবৈধভাবে তারে অর্থ-বিত্ত তৈরি করেছে। এমনকি এই কুলাঙ্গাররা এই এলাকার ন্যায় বিচার ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, শামীম ওসমানের ক্যাডার বাহিনী এই এলাকাকে এমনভাবে জিম্মি করে রেখেছিলো যে মানুষ কখনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন কেউ যাতে কোথাও কোন চাঁদাবাজি করতে না পারে। সম্পুর্ণ চাঁদাবাজ মুক্ত এলাকা থাকবে নারায়ণগঞ্জ। কেউ চাঁদাবাজি করলে আপনারা ব্যবস্থা নিবেন, না পারলে আমাদের বলবেন; আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিবো। কিন্তু আর কোনো সন্তানকে কুলাঙ্গার হতে দেয়া যাবে না।
সাবেক এমপি শামীম ওসমানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হোন্ডার বহর নিয়ে তারা এই এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেছে। আজ কোথায় তারা। তাই ক্ষমতা থাকলেই ক্ষমতা দেখাতে নাই। অন্যায় করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন শাস্তি এসে গেছে, আজ তারা পলাতক। তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে রেখে পলায় গেছে। আমি আগেও সব জায়গায় বলতা, সর্বশ্রেষ্ট গডফাদার শামীম ওসমান কিন্তু ও একটা কাপুরুষ।
২০০১ সালে বোরকা পরে সে দেশ ত্যাগ করেছিলো। সেই দিনও সে তার কর্মীদের কথা ভাবেনি। এবারও বহু হুংকার দিয়েছে। তখন কেউ কেউ উত্তর দিতে ভয় পেতো, আমি শুধু আল্লাহকে ভয় পেতাম। আমি তখন বলেছি, ও একটা কাপুরুষ, ওকে ভয় পাবেন না। সে তো আবারো পালায় গেছে, কিন্তু সাঙ্গ পাঙ্গদের কথা তো একবারও ভাবলো না।
এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



