Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অন্যান্য এজেন্ডার পাশাপাশি শোভন-রাব্বানীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মা’দক ব্যবসা আর টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে শীর্ষ এই দুই নেতার বিরুদ্ধে।

৮ সেপ্টেম্বর রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন। এরপর ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী দু’দিন গণবভনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও ফিরে আসেন।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গোলাম রাব্বানী ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লেখেন। চিঠিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ও গুলিস্তানের কার্যালয়ের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। ২০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে দেরি করে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। রাব্বানী দাবি করেন, তাঁরা বারবার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, কমিটি বাণিজ্য আর মা’দক ছাড়াও ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুব্ধ হওয়ার বড় কারণ হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বড় অঙ্কের টাকা চাওয়ার যে অভিযোগ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে, তাতেও ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগাতে অর্থ লেনদেনের বিষয় এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রলীগের অফিস কক্ষে মা’দক পাওয়ার বিষয়টি।

গত ১৩ মে সম্মেলনের এক বছরের মাথায় ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক। এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতারা আন্দোলন শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, অর্থের বিনিময়ে যোগ্যদের বাদ দিয়ে মা’দকসেবী, মা’দক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিবির ও ছাত্রদলের নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান সেই আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন দুই শীর্ষ নেতা।

প্রধানমন্ত্রী কেন ক্ষুব্ধ সে বিষয়ে সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, বুঝতে পারছি না। তবে আমার ধারণা, নেত্রী খুব কষ্ট পেয়েছেন। আমাদের কাছে যেটা যেভাবে চেয়েছিলেন, সেটা সেভাবে পাননি হয়তো। ভালো ছাত্রের প্রতি যেমন শিক্ষকের প্রত্যাশা বেশি থাকে, আমাদের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে, তাদের কাছ থেকে বরাদ্দের ৪ থেকে ৬ শতাংশ নিয়ে ছাত্রলীগকে দেওয়ার দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি এ অভিযোগ জানিয়েও এসেছেন। তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর দাবি, কেন্দ্রীয় কমিটি নয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে উপাচার্যের ছেলে ও স্বামীর এই লেনদেন হয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে ইতিমধ্যে জানিয়েছি যে তারা আমাকে হুমকি–ধমকি দিয়েছে। এই হুমকিরই একটি প্রকাশ হিসেবে এখন আমার স্বামী ও ছেলের ওপর দোষ দিতে চাচ্ছে। তারা মনে করেছে, এতে আমি ভয় পাব। কিন্তু এটা একেবারে ডাহা মিথ্যা কথা। টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমার ও আমার পরিবারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে জাবির উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শাখা ছাত্রলীগকে দেড় কোটি টাকা দেওয়ার বিষয়টিকে বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি ।

ফারজানা ইসলাম বলেন, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনো কথা তাদের সঙ্গে আমার হয়নি। তারা তাদের মতো করে কাজ করে। তারা কোথায় কাজ করে, কি কমিশন পায় কি, পায় না সেগুলো জানাতে আমি বলেছি, আমার সাথে টাকা-পয়সা নিয়ে তোমরা কোনো আলাপ করবা না। তোমরা যেটা করতে চাও সেটা তোমাদের নিজেদের মতো কর। তোমরা তোমাদের মতো চলো। এইটুকুই শুধু কথা। কিন্তু তারা এটাকে একটা গল্প বানিয়েছে।

গত মে মাসে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপে ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য ৪৫০ কোটি টাকার দরপত্রের শিডিউল বিক্রির সময় উপাচার্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিলেন। সে সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, হাসপাতালে আমি জীবন–মরণ লড়াই করছিলাম। সেখানেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিল। তারা হাসপাতালেও গেল, বাসায়ও এল। কিন্তু তাদের প্রস্তাব আমি কখনোই শুনব না। তাদের কথা না মানায় তারা অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গিয়েছিল।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, পার্সেন্টেজ চাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। আমরা জানতে পারলাম, আমাদের নলেজের বাইরে ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেত্রী আমাদের দিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে নেতিবাচক খবর হলে তার দায়ভার আমাদের ওপরও বর্তায়। তখন আমি ও সভাপতি উপাচার্য ম্যামকে জিজ্ঞেস করি তিনি টাকা কেন দিলেন, নিশ্চয়ই আপনার বা আপনার ঘনিষ্ঠ কারও সংশ্লিষ্টতা আছে! এ কথাটিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন।

গোলাম রাব্বানীর দাবি, উপাচার্যের স্বামী ও ছেলে এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর ভাষ্য, উপাচার্যের স্বামীর কোনো পেশা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজটাজের মতো বিষয়গুলোই দেখে থাকেন। উপাচার্যকে আমরা বলেছিলাম, টাকা দিতে হলে আপনি আমাদের মাধ্যমে বলতেন।

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে শাখা ছাত্রলীগের উপ–দপ্তর সম্পাদক এম মাইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোলাম রাব্বানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সম্পর্কে যে বিবৃতি দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য। গত ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আলোচনার বিষয়ে তাঁরা অবগত ছিলেন না।

অন্যদিকে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান,বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত জেলা সমমর্যাদার দুটি কমিটি ঘোষণা করেছে। এর একটি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। গত ১৩ জুলাই ঘোষণার পর থেকেই কমিটি দিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কথোপকথনের ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে তার সত্যতাও পাওয়া যায়। প্রায় পাঁচ মিনিটের ফাঁস হওয়া অডিওতে নেতা হওয়ার জন্য টাকার দেনদরবার, কমিটি ভাঙা ও নতুন কমিটি আনাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

তবে অডিওর বিষয়টি অস্বীকার করে রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, ওই কণ্ঠ আমার নয়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র বলছে, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ঘোষণার সময় আওয়ামী লীগের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা তাঁর পছন্দের ব্যক্তিকে শীর্ষ দুটি পদের একটি দিতে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা তা না করে অর্থের বিনিময়ে বর্তমান নেতৃত্বকে নিয়ে আসেন।

এছাড়া ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্প্রতি ফেনসিডিলের বেশ কয়েকটি খালি বোতল পাওয়া যায়। কার্যালয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। তবে মা’দকের বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল।

সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, গুলিস্তান পার্টি অফিসে কিছু লোক মদের বোতল রেখে ছবি তুলে নেত্রীকে পাঠিয়েছে। এগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি ষড়যন্ত্র। মা’দক যদি নিতেই হয়, অনেক জায়গা আছে, পার্টি অফিসে কেন?

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভা আছে। সেখানে ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।

শোভন-রাব্বানী এখন ঘরে-বাইরে প্রচণ্ড চাপের মুখে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার পর তাদের পাশে এখন আর কেউই নেই। সবাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতাও শোভন-রাব্বানীকে পাশ কাটিয়ে চলছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ৯ নেতার নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেটের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কারণে ঐ সিন্ডিকেটের সদস্যরাও শোভন-রাব্বানী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজেদের বলয়ের বিকল্প প্রার্থী খোঁজা শুরু করেছেন। এ কারণে তিন দিনেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চাওয়া সংবলিত রাব্বানীর চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়নি।

গত বুধবার রাতে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছেন। যা প্রধানমন্ত্রীকে পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের হাতে দিয়েছিলেন রাব্বানী। চিঠিতে তিনি নিজেদের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘আপনি মুখ ফিরিয়ে নিলে যাবার কোনো জায়গা নেই।’

চিঠিতে শেখ হাসিনাকে ‘মমতাময়ী নেত্রী’ সম্বোধন করে কয়েকটি প্রোগ্রামে দেরিতে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.