ফাইল ছবি
Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত ১০ বছরে সংসদের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক দল অংশ গ্রহণ করেছে, অথচ এই সংসদকে অবৈধ বলেও বিএনপির সদস্যরা শেষ পযর্ন্ত সংসদে এসেছে। তিনি এজন্য তাদের সাধুবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আমরা সরকার গঠন করে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। গত ১০ বছরে দেশ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন ভন্ডুল করতে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। সে সময় রওশন এরশাদ এগিয়ে আসেন। জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল এবং অন্যান্য কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। অনেক বাধা অতিক্রম করে তখন নির্বাচন করতে আমরা সক্ষম হই, যদিও এই নির্বাচন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন।

নির্বাচনে যদি জনগণের অংশ গ্রহণ না থাকতো তাহলে আমরাতো সরকারে টিকে থাকতে পারতাম না। জনগণ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এবং ভোট দিয়েছিল বলেই আমরা ৫ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, ‘৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিচারপতি আব্দুস সাত্তার প্রার্থী হন। তখন এরশাদ দেশের বাইরে গিয়ে বলেছিলেন সাত্তার তাদের প্রার্থী। আমরা এটার প্রতিবাদ করেছিলাম। তখন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেননি। সাত্তার সাহেব ছিলেন তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে হঠাৎ করে সাত্তার সাহেবের বিরুদ্ধে একটা বিবৃতি দেন। ৮২ সালে এরশাদের ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। বিনিময়ে এরশাদ সাহেব তাকে দুটি বাড়ি এবং নগদ ১০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। জিয়ার মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা হয় কিন্তু বিএনপি কোনদিনও এই মামলা পরিচালনা করেনি। পনবর্তীতে জিয়াউর রহমান হত্যার জন্য খালেদা জিয়া এরশাদকে দায়ী করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এক মিলিটারি ডিক্টেটরের পরিবর্তে আরেক মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতায় আসুক এটা আমাদের কাম্য ছিল না, এজন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দল এর প্রতিবাদ করেছিল।

তিনি বলেন, ‘৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর আমাকে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও চড়াই-উৎড়াই অতিক্রম করতে হয়েছে। জেনারেল জিয়া ৩২ নম্বরের বাড়িতে আমাকে ঢুকতেই দেয়নি, এটাই বাস্তবতা। এরশাদ প্রথমে মার্শাল ল’ জারি করে পরে নিজেই ক্ষমতা দখল করে নেয়। ৭৫ সালে জাতির পিতা হত্যার পর জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে, এরপর এরশাদও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে। উচ্চ আদালত তাদের এই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। অবৈধ যখন ঘোষণা করেছে, তখন তাদের দুজনের কেউই আর রাষ্ট্রপতি থাকে না, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী তাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা বৈধ নয়, এটাই বাস্তবতা। কারণ এই একটি রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার সুযোগ হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল এরশাদের ব্যবহার আচার-আচরণ অনেক অমায়িক ছিল। মানুষের প্রতি তার দরদ ছিল। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে জিয়া ক্ষমতায় আসেন। তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণে কোন উদ্যোগই গ্রহণ করেননি। যেটা জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এসে করেছেন।

নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে এরশাদের সাথে সংলাপের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় আমাদের ১৪জন ছাত্রের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা ছিল। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি তাদের মুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের লালদিঘির ময়দানে জনসভায় গুলি বর্ষণসহ এরশাদের আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিভিন্ন অত্যাচার এবং তাঁর নিজের কারাবরণের কথাও উল্লেখ করেন।

১৯৮৬ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই নির্বাচন যদি অবাধ, নিরপেক্ষ হতো তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকতো এবং এরশাদকেও বিতর্কিত হতে হতো না। নিজেই আবার পরবর্তীতে সংসদ ভেঙে দিয়ে আবারো বিতর্কের মুখে পড়েন। ৮৮ সালের নির্বাচনে প্রায় কোন দলই অংশ গ্রহণ করেনি। এরপরই আন্দোলন গড়ে উঠে এবং জনগণের আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। একই ধরণের নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় থাকতে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি করেছিল। তখনও কোন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তিনি ওই নির্বাচনে জয়লাভ করে নিজেকে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও জনগণ তাকে দেড় মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে দেয়নি।

তিনি বলেন, জনসমর্থন না থাকলে অর্থাৎ সত্যিকার অর্থেই যদি জনগণ ভোট দিয়ে না থাকে তাহলে ওই নির্বাচনে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদসহ বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি সুষমা স্বরাজের আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের স্থলসীমানা চুক্তির বিলটি তিনিই ভারতের সংসদে উত্থাপন করেন এবং দলমত নির্বিশেষে সব সদস্য এই বিলটি পাশ করেন। সূত্র: বাসস

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md. Mahamudul Hasan, widely known as Hasan Major, is a career journalist with over two decades of professional experience across print, broadcast and digital media. He is the founding Editor of Zoombangla.com. He has previously worked for national English daily New Age, The Independent, The Bangladesh Observer, leading Bangla daily Prothom Alo and state-owned Bangladesh Betar. Hasan Major holds both graduate and postgraduate degrees in Communication and Journalism from the University of Chittagong.