Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক : ‘বর্তমান সংসদে অনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা রয়েছেন’- এমন মন্তব্য করায় সরকারদলীয় সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) হারুনুর রশীদ। পরে তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

রোববার জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনে জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্যের পর হারুন বক্তব্য দিতে ফ্লোর নেন। এ সময় তিনি চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘যেসব এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভোট হচ্ছে সেসব এলাকা আতঙ্কের এলাকায় পরিণত হয়েছে।’

এ পর্যায়ে সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের উদ্বৃতি দিয়ে ‘এই সংসদে অনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা রয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই বক্তব্যের পর সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা মাইক ছাড়াই প্রতিবাদ করতে থাকেন। চিৎকার-চেঁচামেচিতে হারুনুর রশীদ বক্তব্য দিতে পারছিলেন না। এ সময় হারুন তার কথাগুলো শেষ করার সুযোগ দিতে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির হারুন বলেন, ‘আপনি প্রত্যাহার করতে বলেছেন। আমি আগে উত্থাপন করি। আপনি যদি আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন তাহলে অবশ্যই প্রত্যাহার করব। এ সময় চিৎকার-চেঁচামেচি আরও বেড়ে যায়। যে কারণে স্পিকার কোনো কথা শুনতে পাচ্ছেন না বলে হাউসকে জানান এবং হেডফোন কানে দেন। পরে সবার প্রতিবাদের মুখে হারুনুর রশীদ স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এই সংসদে অনির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন’ বলে আমার যে বক্তব্য আপনি প্রত্যাহার করার অনুরোধ করছেন, আমি তা প্রত্যাহার করছি।’

তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, ‘আপনি সংসদের অভিভাবক। আমি আপনার কাছে ব্যাখ্যা চাই। ইতোমধ্যে দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় ধাপ ও চতুর্থ ধাপের তফসিল হয়েছে। তিন শতাধিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং গোটা পরিষদ বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় যাদের নির্বাচিত বলা হচ্ছে, তারা কাদের দ্বারা ইলেকটেড (নির্বাচিত)? এই বিষয়ে আপনার কাছে ব্যাখ্যা চাচ্ছি। আপনি আমাকে (বক্তব্য) প্রত্যাহার করতে বলছেন। কিন্তু আমি জানতে চাই, তারা কাদের দ্বারা নির্বাচিত? এই বিষয়টি এখানে পরিষ্কার করবেন। সংবিধান যেখানে বলছে, প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’

সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ আরও বলেন, ‘কোনো কাজের জন্য যখন টেন্ডার হয় সেখানে একজন অংশগ্রহণকারী থাকলে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তাহলে যেসব জায়গায় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় যাদের নির্বাচিত করা হচ্ছে, সেসব জায়গায় কেন পুনঃতফসিল করা হচ্ছে না?’

নির্বাচন নিয়ে একটি বড় রকমের সঙ্কট তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে হারুন বলেন, ‘আজ নির্বাচনে বিরোধী দল অংশগ্রহণ করছে না। যে কারণে সরকারি দল ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীরা সারা দেশে হানাহানি-খুনোখুনিতে লিপ্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- স্থানীয় নির্বাচনে এটা একটু ঝগড়াঝাঁটি। অথচ ৪০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছে। এরপরও আমরা এটাকে ঝগড়াঝাঁটি বলব? স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি? কেন আপনারা কথাটা প্রত্যাহার করতে বলছেন? কেন বলছেন? যুক্তিসঙ্গত সাংবিধানিক এই জায়গাটি পয়েন্ট অব অর্ডার আকারে আমি উত্থাপন করতে চেয়েছি। কিন্তু আমাকে প্রত্যাহার করতে বলায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’ এরপরই হারুনুর রশীদ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।

এরপর তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘উনি (বিএনপির হারুন) ওয়াকআউট করেছেন ভয়ে। বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বলে হারুন যে দাবি করেছেন তা সত্য নয়। তার নির্বাচনী এলাকায় আলী আজম নামে এক বিএনপি নেতা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া মির্জা ফখরুল নিজেই বলেছেন, স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে তার কোনো আপত্তি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে তারা এই কাজ করছে। সংবিধান রক্ষার্থে নির্বাচন আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। কে আসবে কে আসবে না- বিএনপি জামায়াত শিবিরের দল, তারা নির্বাচনে না এলে কিছু আসে-যায় না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশে নির্বাচন হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। আগামী দিনে বিএনপি-জামায়াতের অস্তিত্ব থাকবে না।’

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.