আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। বাকি ৫০ শতাংশ পরবর্তী অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তব্যে নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণও তুলে ধরা হতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারকে ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ করতে হচ্ছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে সরকার। এ কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ সংবলিত কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়।
ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাস পর নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তিন ধাপে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করে। অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, সরকার শেষ পর্যন্ত এ সুপারিশই আমলে নিচ্ছে।
বেতন কমিশনের প্রতিবেদন তৈরির আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য, পুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতি, প্রতিবেশী দেশের বেতন-ভাতা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা, মানুষের জীবনমানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গত মাসের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী যখন বাজেটের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন, তখন সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি যে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, প্রধানমন্ত্রী তাতেই সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামোর বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে তা উত্তম উপায়ে করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়ার পর গত ২১ মে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আবার বৈঠক করে নাসিমুল গণির কমিটি। সূত্রগুলো জানায়, এ বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় যে আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাবেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



